
ভোটের প্রচারে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দিরে পূজা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর জনসভার মঞ্চে উঠে তিনি স্মৃতিচারণা করলেন বাংলাদেশে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের; প্রতিশ্রুতি দিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের সবাইকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফা ভোটের পর আজ রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে নির্বাচনী প্রচারে যান কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা ভোট গ্রহণ হয়, দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। এরপর ৪ মে ফল ঘোষণা করা হবে।
ঠাকুরনগরে এসে ঠাকুর হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর সমাবেশ মঞ্চে উঠে তিনি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি দেখার স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ওড়াকান্দির হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের কথা এখনো তাঁর মনে জেগে আছে।
২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ওড়াকান্দি হিন্দুদের মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত।
সমাবেশে মোদি বলেন, ভারতের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভারতেরই নাগরিক। মতুয়াদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব পাননি বা ভোটাধিকার পাননি, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আশা দেখছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। মোদি বলেন, প্রথম দফার ভোটে টিএমসির (তৃণমূল কংগ্রেস) অহংকার ভেঙে গেছে, আর দ্বিতীয় দফার ভোটে টিএমসিকে হারিয়ে এই বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি।
মোদি বলেন, এই বাংলায় সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে নারীরা। বিজেপি সংসদে নারীদের আসন ৩৩ শতাংশ বাড়াতে বিল পেশ করলেও কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের বাধায় পাস করাতে পারেনি। নারীদের প্রতি এই অপমান বাংলার মানুষ সইবে না। সে কারণেই আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের শিকার নারী চিকিৎসকের মাকে পানিহাটি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিজেপি।
মোদি বলেন, ‘বিজেপি ৪ মের পর এই বাংলায় প্রথম ক্ষমতায় আসার পর টিএমসির ১৫ বছরের দুঃশাসনের হিসাব কড়ায়–গন্ডায় বুঝে নেবে। গুন্ডা, সিন্ডিকেট রাজ ও মাফিয়ারা কেউ রেহাই পাবে না। সবাইকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।’
মোদি এরপর হুগলির হরিপালে আরেকটি জনসভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার ভাবে। হুগলির বহু কারখানায় তালা পড়েছে। ১৫ বছরে অনেক পাটকল বন্ধ হয়েছে। তবে বিজেপি এলে বন্ধ হবে এই বাংলায় সিন্ডিকেটের কাটমানি, কমিশন, চাঁদা আদায়।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ নদীয়ার তেহট্টে বিজেপির নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।
এবারের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের আশা প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, ‘এই বাংলায় এখন অস্তাচলে তৃণমূল। আর ফিরবে না। আসবে নতুন সরকার, বিজেপির সরকার। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর সাবেক হয়ে যাবেন মমতাদি।’
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফায়ও ভোটদানে রেকর্ড হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, প্রথম দফায় বিজেপি ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০ আসন পেয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে সরকার গড়ার বাকি আসন পেয়ে যাবে। ৪ মের পর এই বাংলায় বিজেপির সরকার আসবে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে মোট আসন ২৯৪টি। সরকার গঠনের জন্য ১৪৮ আসনে জয়ী হতে হয়। বর্তমানে বিরোধী দলের আসনে থাকা বিজেপির আসনসংখ্যা ৭৭।
অমিত শাহ বলেন, ‘এই বাংলায় নতুন রেকর্ড হবে। আগেই নকশালমুক্ত হয়েছে। এবার অনুপ্রবেশমুক্ত হবে। অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাড়ানো হবে।’
এদিন অমিত শাহ পরে রানাঘাটের বিজেপির আরেকটি নির্বাচনী প্রচার সভায় যোগ দেন। সেখানেও তিনি বলেন, এবার বাংলা থেকে বিদায় নেবে তৃণমূল সরকার।