
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখী মিছিল চলাকালে পেলেট ছোড়ার (ছররা গুলি) অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। গত ২০ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে আহত ১৯ বছর বয়সী সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে আজ শুক্রবার দিল্লি পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এরপর এ মামলা করা হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১১৮(১) ও ১২৫ ধারায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৮(১) ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আহত করার বিষয়টি এবং ১২৫ ধারায় মানুষের জীবন বিপন্ন করে বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কাজের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
পেলেটের আঘাতে আহত হওয়ার অভিযোগ করা লোচাব ১৪ আগস্ট দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও তাঁকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) নাম জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী।
লোচাব প্রথমে রাহুল গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে মন্দির মার্গ থানায় যান। পরে তাঁরা পার্লামেন্ট স্ট্রিটে কেন্দ্রীয় দিল্লির উপপুলিশ কমিশনারের (ডিসিপি) কার্যালয়ে যান। সেখানে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, লোচাব ১৭ আগস্ট ই-মেইল ও ফোনের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরও তাঁকে তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়নি।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার মতো অপরাধ। তাই এ ঘটনায় এফআইআর করা উচিত ছিল। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তা করছিল না।’ লোচাবকে সহযোগিতা করতেই তিনি তাঁর সঙ্গে পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান রাহুল গান্ধী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখী মিছিলের সময় পেলেট গান থেকে গুলি ছোড়া হলে লোচাব আহত হন। তাঁর অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে এফআইআর করা হয়েছে।
পুলিশ মামলা করার পর রাহুল গান্ধী এটিকে ন্যায়বিচারের পথে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন এবং ছয় ঘণ্টার বেশি সময়ের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।