তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে বুথফেরত জরিপের ফল মানতে নারাজ তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন–পরবর্তী বুথফেরত জরিপের ফলাফল নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ জরিপ বলছে, রাজ্যের নির্বাচনে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বিজেপি। তবে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস তা মানতেই চাইছে না।

গতকাল বুধবার এ জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোরের সঙ্গে দাবি করে বলেছেন, ৪ মের ফলাফল প্রকাশের দিনই দেখা যাবে, তৃণমূল জিতেছে। বাংলার সরকার আবার গড়বে তৃণমূলই। বিজেপি ৫০–এর বেশি আসন পাবে না বলেই দাবি অভিষেকের।

আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আজ বৃহস্পতিবার জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, এই রাজ্যে তৃণমূলের শাসনের অবসান হবেই। অবসান হবে দুর্নীতিবাজ সরকারের। আসবে নবরূপে বিজেপি।

শমীক ভট্টাচার্য মনে করেন, বুথফেরত জরিপে জনমতের যথার্থ প্রতিফলইন ঘটেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুই দফার নির্বাচন শেষ হলো গতকাল। ১৫২ আসনের নির্বাচন শেষ হয়েছে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল। আর গতকাল দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গে ভোট পর্ব।

এ নির্বাচন শেষে ভারতের বিভিন্ন সমীক্ষা সংস্থা তাদের বুথফেরত ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে যে সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করেছে, তাতে ইতি দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জিততে চলেছে বিজেপি। তবে এই জেতার জন্য থাকবে তীব্র লড়াই।

গতকাল রাতে প্রকাশিত হয়েছে ছয়টি সমীক্ষা সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষার রিপোর্ট। তাতে পাঁচটি সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে বিজেপির জয়ের। একটি সংস্থা দিয়েছে তৃণমূলের জয়ের। ম্যাট্রিজ তাদের সমীক্ষা রিপোর্টে বলেছে, বিজেপি পাবে ১৪৬ থেকে ১৬১ আসন। আর তৃণমূল পাবে ১২৫ থেকে ১৪০ আসন। পোল ডায়েরি বলেছে, বিজেপি পাবে ১৪২ থেকে ১৭১ আসন। আর তৃণমূল পাবে ৯৯ থেকে ১২৭ আসন। পি-মার্ক বলেছে, বিজেপি পাবে ১৫০ থেকে ১৭৫ আসন আর তৃণমূল পাবে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। প্রজাপোল অ্যানালেটিকস বলেছে, বিজেপি পাবে ১৭৮ থেকে ২০৮ এবং তৃণমূল পাবে ৮৫-১১০ আসন। চাণক্য স্ট্র্যাটেজিকস তাদের রিপোর্টে বলেছে, বিজেপি পাবে ১৫০- থেকে ১৬০টি আসন আর তৃণমূল পাবে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন।

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

আর পিপলস পালস তাদের সমীক্ষা রিপোর্টে এগিয়ে রেখেছে তৃণমূলকে। তারা তাদের রিপোর্টে বলেছে, তৃণমূল পাবে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন। আর বিজেপি পাবে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন।

আর তৃণমূলের মুখপাত্র ও এবারের নির্বাচনে বেলেঘাটা আসনের তৃণমূল প্রার্থী ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, বিজেপি ৫০ আসনই পার করতে পারবে না। জিতবে তৃণমূল। সরকার গড়বে তৃণমূল। চারবারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা। ২৩৫ আসনে জিতে তৃণমূল ছাব্বিশে এক নয়া রেকর্ড গড়বে।

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, বাংলার মানুষ বিজেপিকে এবার প্রত্যাখান করেছে। আর সেই এসআইআরয়ের পরিণাম হলো বিজেপির বিপুল ভোটে পরাজয়। তাঁর দাবি, ২৩৫ আসনেই জিতবে তৃণমূল।

এই রাজের বিধানসভায় রয়েছে ২৯৪ আসন। কুণাল ঘোষ এ কথাও বলেছেন, যত বেশি ভোট পড়বে, তত বেশি তৃণমূলের ভোট বাড়বে। তৃণমূলের নিশ্চিত প্রত্যাবর্তন হবে।

২০২১ সালের সর্বশেষ এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। আর একটি আসন পেয়েছিল আইএসএফ বা ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। কংগ্রেস ও বাম দলের পক্ষে একটি আসনও জোটেনি।