ভারতের দিল্লির মালব্য নগরের একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হয়েছে। ভবনটিতে একটি রেস্তোরাঁ ও একটি হোটেল আছে। পুলিশ বলেছে, নিহতদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কয়েকজন নাগরিকও আছেন।
সূত্র বলছে, ভবনটিতে লেমন গ্রিন নামের একটি রেস্তোরাঁ এবং ফ্লোরিশ স্টে বি নামের একটি হোটেল ছিল। সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালের কাছে ওই ভবনের অবস্থান।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল শিখা বের হয়ে আসছে। পুলিশের সূত্রগুলো বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, আগুন লাগার সময় হোটেলের অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তাল বলেন, সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটের দিকে মালব্য নগরের ফ্লোরিশ স্টে–তে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালান, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, আগুন সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতাল, এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টার এবং পন্ডিত মদন মোহন মালব্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, আহতদের মধ্যে ১৩ জন বর্তমানে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
মালব্য নগরের বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায়ও ও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে সহায়তা করেছেন।
আগুন লাগার সঠিক কারণ কেবল পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন সতীশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি হওয়াকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
মোদির পক্ষ থেকে তাঁর দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, আমি তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।’
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেছেন, এই প্রাণহানির ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে শোকাহত’।