মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি
মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি

রাহুল গান্ধীর ‘সত্যাগ্রহ’, এর মাধ্যমে কী করতে চান তিনি

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসছে বহু মানুষ, নানা রাজ্যে নানান প্রশ্নে। এই অস্থির আবহে দেশজুড়ে চলা বিভিন্ন গণ–আন্দোলন ও প্রতিবাদের সব তথ্য এক জায়গায় সংকলিত করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘সত্যাগ্রহ’ নামে এক ওয়েবসাইট চালু করলেন।

আজ শনিবার সেই ওয়েবসাইট চালু করে রাহুল বলেন, দেশবাসী যাতে তাঁদের প্রতি ঘটে যাওয়া যাবতীয় অন্যায় ও অবিচারের অভিযোগ জানাতে পারেন, সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, প্রতিবাদ নথিবদ্ধ করতে পারেন, সেটাই এই ওয়েবসাইটের কাজ।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সত্যাগ্রহ’ নামের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের ঘোষণা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই সঙ্গে ‘সত্যাগ্রহ: সংঘর্ষ জোড়ো, ভারত জোড়ো’ নামে এক ভিডিও বার্তাও তিনি পোস্ট করেন।

মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীর পরের দিন এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাহুল বলেন, এই ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ ও সংগঠনের আন্দোলন ও প্রতিবাদের খবর থাকবে। যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন তাঁর বা তাঁদের আন্দোলনের তথ্য এখানে দিতে পারবেন। কেউ তাঁদের আন্দোলনে সাহায্য চাইলে তা জানানোর উপায়ও এই ওয়েবসাইটে থাকবে।

এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট উদ্বোধনের ভিডিও বার্তায় লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, ‘দেশের কোণে কোণে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় লড়াই করছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের কথা বলছেন, নারীরা তাঁদের কাহিনি তুলে ধরছেন, কেউ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করছেন। লোকসভার বিরোধী নেতা হিসেবে আমি চেয়েছি, সব আন্দোলন সম্পর্কিত তথ্য এক জায়গায় সংকলিত করতে।’

রাহুল বলেন, ‘বর্তমানে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে সত্যের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। সেই কারণে জমাট বাঁধা জনক্ষোভকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়া জরুরি। সেই উদ্দেশ্যেই আপনাদের সবার জন্য সত্যাগ্রহ নামে এই ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে।’

সেই ওয়েবসাইটের তলাতেই লেখা রয়েছে, ‘সংঘর্ষ জোড়ো, ভারত জোড়ো’।

রাহুল মনে করেন, শিক্ষার্থী, জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম, নারী, কৃষক, আদিবাসী, দলিত প্রত্যেকের প্রতিবাদের আলাদা আলাদা প্রেক্ষিত রয়েছে। দেশের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে একাকী লড়াই বা প্রতিবাদের আওয়াজ অনেক সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। এসব প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে একত্র করা ও এক ডিজিটাল মানচিত্রে নিয়ে আসাই এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।

রাহুল বলেন, ‘যেখানে সত্যকে নিত্য পিষে ফেলা হচ্ছে, সেখানে মানুষকে প্রতিরোধে সাহায্য করা বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমার কর্তব্য। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, ‘যেখানে যে আন্দোলনই গড়ে উঠুক, ছোট বা বড় যাই হোক, আপনাদের নাম ও সংগঠনের পরিচয় জানিয়ে জমা দিন। কী নিয়ে আন্দোলন, তা জানান। আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পারি কি না, কিংবা আমাদের সাহায্য আপনারা চান কি না, তা–ও লিখে জানান। আপনাদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়াতে পারলে, সাহায্য করতে পারলে আমরা খুশি হব।’

সেই ভিডিও বার্তায় রাহুল ব্যবহার করেছেন সাম্প্রতিক আন্দোলনের নানা ঘটনার ছবি আর ভিডিও ক্লিপিং।

গান্ধীজির বাণী উদ্ধৃত করে রাহুল ওই বার্তায় বলেন, ‘বাপু (গান্ধীজি) আমাদের শিখিয়েছেন সত্যই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তবে আরও বড় অস্ত্র হলো সত্যের পাশে জোট বেঁধে দাঁড়ানো। আপনি যদি কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকেন, তা হলে সেই গল্প এখানে শেয়ার করুন। সময় লাগবে মাত্র দুই মিনিট।’

সংগ্রামী আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে রাহুল বলেছেন, ‘সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে, রাজপথে, চিঠিপত্র মারফত হোক বা অন্য কোনো মাধ্যমে, যখনই প্রয়োজন পড়বে আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াব। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়ানো আমার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

সত্যাগ্রহ ওয়েবসাইট চালুর দিনেই দেখা যাচ্ছে, দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যে ১ হাজার ১২টি আন্দোলনের চিত্র জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শিক্ষা ক্ষেত্রে। জমা পড়েছে ১৯৯টি। তার পরেই স্থান দুর্নীতির (১৩৮)। কৃষকদের সমস্যা ও তাঁদের আন্দোলনের কাহিনি (১০৫) রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

জাতভিত্তিক বৈষম্যসংক্রান্ত আন্দোলন (৭৫) চতুর্থ। শ্রমিক অধিকারসংক্রান্ত আন্দোলন জমা পড়েছে ৬৮টি। এটি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। স্বাস্থ্যের দাবি (৬৫) ষষ্ঠ। ভূমি অধিকার আন্দোলন (৪৬) সপ্তম। অষ্টম স্থানে রয়েছে নারীর নিরাপত্তা (৪৩)।

ওয়েবসাইটে ভারতের মানচিত্রে কোন রাজ্যের কোথায় কোথায় কোন আন্দোলন চলছে, তা লাল বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। কোন রাজ্যে কোথায় কী নিয়ে আন্দোলন চলছে, তা রাজ্যে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে।