
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ চলছে আজ বুধবার। সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, শেষ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। এই ১৪২ আসন পড়েছে সাত জেলার মধ্যে। এর মধ্যে আগের নির্বাচনে চার জেলাতেই বিজেপি কোনো আসন পায়নি। তাই এবারে যেসব আসনে নির্বাচন হচ্ছে, তা ‘তৃণমূলের জমি’ হিসেবে পরিচিত। সেই জমিতে এবার পদ্মফুল ফুটবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা আছে।
দ্বিতীয় দফার এ ভোট ঘিরে আগে থেকেই তূণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচন চেয়েছে বিজেপি। রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনার শাসনে ভোট দিতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের তাড়া দিয়েছেন আইএসএফ কর্মীরা।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যসহ পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা হানা দেন।
এদিকে আজ সকাল থেকেই তৃণমূলপ্রধান ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দুজনই বেরিয়েছেন ভোট পর্যবেক্ষণ করতে। ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, গতকাল সারা রাত জেগে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলায় জেলায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করেছে। অনেকের বাড়ির দরজায় টোকা দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী চক্রবেড়িয়া স্কুলের বুথ পরিদর্শন করেছেন।
দ্বিতীয় দফা যে সাত জেলায় ভোট হচ্ছে, সেগুলো হলো—পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতা।
দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় সময় বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ ভোটের হার গত ২৩ এপ্রিলের অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের চেয়ে কম।
এবারের ১৪২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ২২০ জন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই প্রধান দল তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে। ভোট নেওয়া হচ্ছে ৪১ হাজার ১টি ভোটকেন্দ্রে। এবার ১৮-১৯ বছরের বয়সীদের ৪ লাখ ১২ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রতিবন্ধী ভোটারের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৭৮৩ জন। ১০০ বছরের উর্ধ্বের ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৩। রয়েছে কেবল নারী পরিচালিত ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৮৪৫টি। ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও ভোট কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১২৩টি আসনে। বিজেপি ১৮টি আসনে এবং আইএসএফ পেয়েছিল ১টি আসন। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট কোনো আসনে জিততে পারেনি।
এবার ভোট দেবেন ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৯ জন। ভোটারের সংখ্যায় সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলো হুগলির চুঁচুরা আর ছোট কেন্দ্র উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাটপাড়া।
ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন এই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করেছে। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ হয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনায়, ৫০৭ কোম্পানি। রয়েছে রাজ্য পুলিশও। গত নির্বাচনে এই ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৮১.১ শতাংশ।
বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, এবার এই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীরা আর শূন্য হাতে ফিরবেন না। শূন্য হাতে ফিরবেন না কংগ্রেস ও বামপ্রার্থীরাও।
এই দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে এবার নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।
বিশেষ করে এই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় জেলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে আনা হয়েছে উত্তর প্রদেশের আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মাকে। তাঁর বিরুদ্ধে কথিত বন্দুকযুদ্ধের অভিযোগ আছে। গত দুই দিন তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন অশান্ত এলাকায় ঢুকে ভোটে ‘হাঙ্গামাকারীদের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর অজয় পাল শর্মাকে নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য গতকাল কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে তৃণমূল সমর্থক আইনজীবীরা। বিচারপতি মামলাটি গ্রহণ করে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এরপর গতকাল গভীর রাতে অজয় শর্মাকে নির্বাচন থেকে সরানোর দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে আবার একটি মামলা করেন তৃণমূলের এক সমর্থক আদিত্য দাস। সেই মামলার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও এই মামলার পাল্টা একটি মামলা দিল্লির মন্দিরমার্গ সাইবার থানায় দায়ের হয়েছে। মামলাটি হয়েছে তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ এআইয়ের মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অজয় পালের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।