
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট বুধবার শেষ হতেই বেশ কয়েকটি সংস্থা বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করে। তবে এসব জরিপে সম্ভাব্য ফলাফলের বিভক্ত চিত্র উঠে এসেছে। কিছু জরিপ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে, আবার কিছু বলছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় থাকবে।
তবে এর মধ্যে একটি নামকরা সংস্থা এখনো নীরব। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় তারা পশ্চিমবঙ্গের বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করবে না।
বুধবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রদীপ গুপ্ত বলেন, ভোটাররা তাঁদের জরিপে সাড়া দেননি।
প্রদীপ গুপ্ত এনডিটিভিকে বলেন, ‘দেখুন, অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জরিপ করে। প্রথম দফা ভোটের পর আমরা যখন কথা বলার চেষ্টা করি, তখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ মুখ খুলতেই রাজি হননি। হ্যাঁ বা না—কোনোটাই বলেননি।’
প্রদীপ গুপ্ত আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন। তাই নমুনা পর্যাপ্ত ও প্রতিনিধিত্বমূলক না হলে মাত্র ২০-৩০ শতাংশ মতামতের ভিত্তিতে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া আমরা ঠিক মনে করি না। বৃহস্পতিবার আবার চেষ্টা করব। ভোট শেষ হয়ে গেছে, এখন হয়তো মানুষ একটু খোলামনে কথা বলবেন।’
একই সাক্ষাৎকারে প্রদীপ গুপ্ত আবারও বলেন, বৃহস্পতিবারও অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গের জরিপের ফল প্রকাশ না করতে পারে।
প্রদীপ গুপ্ত বলেন, ‘কেউ কথা না বললে আমার কিছু বলার থাকে না, তাই মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সেরাটুকু দেওয়ার চেষ্টা আমি সব সময়ই করি। এই দিনগুলোতে আমরা অনেক খেটেছি, অনেক পরিশ্রম করেছি। এত কষ্টের পরও যদি পূর্বাভাস দিতে না পারি, সেটা আমাদের জন্যও হতাশার।’
শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে গুপ্ত এনডিটিভিকে জানিয়ে দেন, অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া তাদের পূর্বাভাস প্রকাশ করবে না।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১৪৮টি আসন।
কয়েক দফায় ভোট গ্রহণ শেষে বুধবার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপগুলোর পূর্বাভাসে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ‘প্রজা পোল’ নামের একটি জরিপ বলছে, বিজেপি পেতে পারে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন। ‘ম্যাট্রিজ’ ও ‘পোল ডায়েরি’–এর জরিপ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছাড়িয়ে বিজেপিকে যথাক্রমে ১৬১ ও ১৭১টি আসন দিয়েছে।
অন্যদিকে ‘জনমত পোলস’ বলছে, তৃণমূল ও তার জোটসঙ্গীরা ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পাবে। ‘পিপলস পালস’ ক্ষমতাসীন দলের জন্য পূর্বাভাস দিয়েছে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসনের। এই দুটি জরিপের বক্তব্য হলো, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো দলটিকে বিজেপির চ্যালেঞ্জ সামলাতে সাহায্য করেছে।
বাম দলগুলো ও কংগ্রেসের জোট যে খারাপ করবে, তা নিয়ে বেশির ভাগ জরিপ সংস্থাই একমত। অনেক পূর্বাভাসে তাদের সম্মিলিত আসন ১ অঙ্কের ঘরে থাকবে বলে দেখানো হচ্ছে।