পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত কয়লা পাচার–সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে তল্লাশির ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের করা চারটি এফআইআরের কার্যক্রমে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিচারপতি প্রকাশ চন্দ্র মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ওই দিন পর্যন্ত উভয় পক্ষকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।
৮ জানুয়ারি ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাসভবন এবং আই-প্যাকের সল্টলেক সেক্টর–ফাইভের প্রধান কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। ওই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতার দুটি থানায় ইডির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে। এরপরই ওই এফআইআরগুলোর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় ইডি।
সুপ্রিম কোর্টে ইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে ইডির বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত রাজ্যের বাইরে অন্য কোনো স্থানে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) দিয়ে করানো হোক। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পুলিশের মহাপরিচালক রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার মাধ্যমে আই-প্যাকের দপ্তর ও প্রতীক জৈনের বাসভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নেন। এতে ইডির কর্মকর্তারা তল্লাশির সময় কোনো জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে পারেননি।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুক্তি, কোনো আগাম নোটিশ না দিয়েই ইডি ওই তল্লাশি চালায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কাজকর্ম–সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযোগ, তল্লাশির নামে দলের মূল্যবান দলিল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির তদন্ত নতুন নয়। তবে গত সপ্তাহে এই মামলার তদন্তে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে ইডি। সংস্থাটির দাবি, কয়লা পাচারের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে কয়েক কোটি রুপি আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে আই-প্যাকের সল্টলেক অফিস ও প্রতীক জৈনের বাসভবনে যান এবং ইডির কার্যক্রমে আপত্তি জানান। পরে ইডি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, সাংবিধানিক পদে থেকে মুখ্যমন্ত্রী এভাবে দপ্তরে ঢুকে নথি সরিয়ে নেওয়া আইনবিরুদ্ধ। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।