আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানি
আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানি

যুক্তরাষ্ট্র ই–মেইলে সমন পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর খবর শুনে যোগাযোগ শুরু করলেন আদানি

ভারতের ধনকুবের ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানি ও তাঁর ভাগনে সাগর আদানির আইনজীবীরা ই–মেইলের মাধ্যমে সমন পাঠানোর আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে হওয়া আলোচনার অগ্রগতি জানাতে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে আবেদন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ দেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগে আদানি ও তাঁর ভাগনের বিরুদ্ধে এসইসি সমন পাঠিয়েছিল। নিউইয়র্কের আদালতে জমা হওয়া ওই নথি থেকে জানা গেছে, গত বছর মে ও ডিসেম্বর মাসে দুই দফায় ভারত সরকারের কাছে সমনটি আদানিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে এসইসি। কিন্তু দুবারই সেটি ফেরত পাঠায় মোদি সরকার।

এ কারণে এসইসি বিকল্প উপায়ে সমন জারির অনুমোদন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে। পরদিন ২২ জানুয়ারি নিউইয়র্কভিত্তিক আইনি পরামর্শক সংস্থা সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েল আদানিদের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে এসইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরদিন আদানিদের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের এসইসির সঙ্গে আলোচনার ফল না আসা পর্যন্ত আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে তাদের আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন।

২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক নিয়ম (হেগ কনভেনশন) মেনে গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে সমন দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ই–মেইলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় নিউইয়র্ক এসইসি।

ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় কারিগরি ও আইনগত আপত্তির কথা উল্লেখ করে গৌতম ও সাগর আদানির নামে এসইসির জারি করা সমন আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিতে দুবার অস্বীকৃতি জানায়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ আদানি গ্রুপের কয়েকজন নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, আদানি গ্রিন এনার্জির উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন তাঁরা।

আদানি গ্রিন এনার্জি আদানি গোষ্ঠীরই কোম্পানি। এ ঘটনায় এসইসি গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে।