পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ৪ মে ২০২৬, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ৪ মে ২০২৬, কলকাতা

ভবানীপুরে মমতার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ছে: দাবি শুভেন্দুর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার ভবানীপুর আসনে এখন পর্যন্ত এগিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনার ষষ্ঠ দফা ঘোষণা শেষে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ১৯ হাজার ১০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

তবে মমতার এগিয়ে থাকার এই ফল বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না বলে নিশ্চিত বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। তাঁর যুক্তি, এখন পর্যন্ত মমতার মূল ভোটব্যাংক অঞ্চলের গণনার ফল প্রকাশিত হয়েছেমাত্র। এরপর জনতার রায় ঢলবে পদ্মশিবিরের দিকেই।

অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের চেয়ে ৩ হাজার ১০০–এর বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু। সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের এ পর্যন্ত গণনার ফল থেকে মনে হচ্ছে, বিজেপি নিরঙ্কুশ জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ষষ্ঠ দফা গণনা শেষে বিজেপি ১৭৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ৯২টি আসনে। সিপিএম, এআইএসএফ ও বিজিপিএম এগিয়ে একটি করে আসনে এবং এজেইউপি এগিয়ে দুটি আসনে।

বাংলার মাটিতে গেরুয়া শাসন কায়েম হলেও কোথাও অশান্তি হতে দেবেন না—সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, তোষণের রাজনীতির পথে হেঁটে রাজ্যে এযাবৎ হিংসা ছড়িয়েছে তৃণমূলই।

শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের হিন্দুরা একজোট হয়েই ভোটের মাধ্যমে সেই বিভাজননীতির বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দিয়েছেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে তৈরি হয়েছিল বিজেপি। তাই বিভাজনের রাজনীতি যা তৃণমূল এতকাল চালিয়ে এসেছে, তার অবসান হবে।

হিন্দুত্ববাদী পথে হেঁটে ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কী করবেন, এমন প্রশ্ন শুনে শুভেন্দু বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হাতে আটকানো হবে। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা এই নির্বাচন লড়ছি এবং জয়ের পথে এগিয়ে চলেছি।’

কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি শাসন থাকার ফলে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ রাজ্যে উন্নয়নের কান্ডারি হবে বলে শুভেন্দু আশ্বাস দিয়েছেন।

ক্ষমতায় এসে কি আবার মহাকরণই হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান দপ্তর? নতুন মুখ্যমন্ত্রী কি তিনিই হচ্ছেন? গণমাধ্যমের প্রশ্নের স্রোত এড়িয়ে শুভেন্দু জানান, তাঁর দলই এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যে জয় নিশ্চিত বুঝে দুপুর ১২টা নাগাদই নিজের দপ্তরে ফিরে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে ‘হিন্দু ভোট-ঐক্য’ গড়ে তোলার প্রধান কারিগর।