ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। আজ রাজ্যটিতে ভোট পড়ে ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।
তামিলনাড়ুতে ভোট দীর্ঘ দিন ধরেই ডিএমকে বনাম এডিএমকের লড়াই। সেখানে এবার জয়ললিতার দল এডিএমকের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে বিজেপি। তবে এবার ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে আরও এক শক্তি। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে)।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সূচনা হয় বিজয়ের দলের। তবে সেবার লোকসভা নির্বাচনে লড়েনি টিভিকে। জল্পনা ছিল—আসন্ন বিধানসভা ভোটে ডিএমকের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন তিনি। কিন্তু একাই লড়ছে তাঁর দল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বিজয়ের। তিনি লড়ছেন তিরুচিরাপল্লি পূর্ব এবং পেরাম্বুর কেন্দ্র থেকে।
অন্যদিকে কোলাথুর কেন্দ্র ধরে রাখতে মরিয়া তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন। ২০১১ সাল থেকে ওই আসনে জিতছেন তিনি। তাঁর পুত্র উদয়নিধির ভোটপরীক্ষা চেপাউকে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে লড়ে জিতেছিলেন এই আসন থেকেই। ডিএমকের সঙ্গে জোটে লড়ছে কংগ্রেস এবং বাম।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে মাত্র ২০টি আসন ছেড়েছিল এডিএমকে। সেই ভোটে বিপুল জয় পায় ডিএমকে-কংগ্রেস-বামদের জোট। এরপর এনডিএ জোট ছেড়েছিল এডিএমকে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলাদাভাবে লড়ে দুই দলেরই ভরাডুবি হয়েছিল। তামিলনাড়ুর ৩৯টি আসনের সব কটিতেই জিতেছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে এবারের ভোটেও এডিএমকেকে সঙ্গী করেই তামিলভূম জয়ের লক্ষ্যে নেমেছে বিজেপি।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই করছেন। আর এআইএডিএমকের ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী পাঁচ বছর পর আবারও সরকারি বেঞ্চে ফেরার চেষ্টা করছেন। রাজ্যজুড়ে সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। রাজ্যে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৫ কোটির বেশি, যার মধ্যে ২ কোটি ৯৩ লাখ নারী, ২ কোটি ৮৩ লাখ পুরুষ। প্রায় ১৪ লাখ নতুন ভোটারও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ডিএমকে ১৬৪টি আসনে এবং তাদের সহযোগীরা ৭০টি আসনে লড়ছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে ১৬৯টি এবং তাদের সহযোগীরা ৬৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) সব কটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। তামিলভূমে এবার বিশেষ নজর রয়েছে বিজয়ের দিকে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মের ভোট ঝুঁকতে পারে বিজয়ের দলের দিকে।