
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্কের জেরে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার মুম্বাইয়ে নতুন করে আন্দোলন করেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
একই দাবিতে দিল্লির বিখ্যাত প্রতিবাদ কেন্দ্র ‘যন্তর মন্তরে’ ছাত্র ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর পূর্বঘোষিত এক সমাবেশ রুখে দিয়েছে পুলিশ। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলার পাশাপাশি সেখান থেকে বেশ কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা পাইয়ে দিতেই কমিশনারদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয় পক্ষই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি তুলেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই দুই কমিশনার কয়েকটি সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেন। উল্লেখ্য, ভারতের আইন অনুযায়ী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, বিষয়টি কমিশনারদের মধ্যকার ভিন্ন মতামত ও পারস্পরিক আলোচনার অংশ, কোনো লিখিত আনুষ্ঠানিক আপত্তি নয়।
রাজ্য নির্বাচনের আগে গত বছর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহার থেকে এই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়।
‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় ভোটার যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের মতে, জটিল ও বিভ্রান্তিকর শর্তের কারণে লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নাম বাদ পড়তে পারে।
কমিশন জানিয়েছে, জাল ও অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। বিপরীতে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের দাবি, মোদি সরকারকে সুবিধা দিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে তীব্র বেকারত্ব এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই যুব আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, যা পরবর্তী সময়ে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়।
অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ গড়ে তোলে। তাদের আন্দোলনের মুখেই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল।
শিক্ষাক্ষেত্রের পর বর্তমানে সংগঠনটি তাদের সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।