
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ‘নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির’ নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রাইম মিনিস্টারস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি’। নাম পাল্টানোয় বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যতই চেষ্টা করুন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাম ও অবদান কেড়ে নিতে পারবেন না।
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক তিন মূর্তি ভবনে নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি অবস্থিত। ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে এটির নতুন নাম কার্যকর হয়েছে। গত জুনেই কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।
বুধবার কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি টুইটারে (এক্স) লিখেছেন, মোদি সব সময় প্রবল ভয়, অনিশ্চয়তা ও একধরনের হীনম্মন্যতায় ভোগেন। বিশেষ করে যখন তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অবদানের মুখোমুখি হন। সে কারণে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য নেহরুকে অস্বীকার করা। তাঁর যাবতীয় অবদান অগ্রাহ্য করা। তাঁকে অসম্মান করা। এ কারণে তিনি ঐতিহাসিক নেহরু মিউজিয়ামের নাম থেকে ‘এন’ শব্দটি মুছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘পি’ জুড়েছেন। এটা তাঁর চারিত্রিক ক্ষুদ্রতা ও নীচতারই প্রমাণ।
জয়রাম রমেশ আরও লিখেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি এভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য নেহরুর পর্বতসম অবদান মুছে দিতে পারবেন না। পারবেন না গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বিজ্ঞানভিত্তিক উদার ভারত গড়ে তোলার যে ভিত নেহরু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা অস্বীকার করতে। যদিও সেই ভিত ও কাঠামো আজ মোদি ও তাঁর অনুগতদের আক্রমণ সহ্য করছে।
সর্বশেষ জয়রাম বলেছেন, এই অবিরাম আক্রমণ সত্ত্বেও জওহরলাল নেহরুর উত্তরাধিকার সারা বিশ্বের কাছে জ্বলজ্বল করবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাবেন।
এমন কথা বলায় জয়রাম রমেশকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। শাসক দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, নেহরুর উত্তরাধিকার কি এতই ঠুনকো যে একটা নাম বদলের জন্য তা শেষ হয়ে যাবে? উত্তরটাও তিনি দিয়েছেন। বলেছেন, এটাই কংগ্রেসের মানসিকতা। ‘পি’ শব্দটি ওদের কাছে নিছকই ‘পরিবারবাদ’।
ব্রিটিশ শাসনের সময় নয়াদিল্লির তিন মূর্তি ভবন ছিল সেনাধ্যক্ষের বাসস্থান। স্বাধীনতার পর সেটা হয় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর বাসভবন। নেহরুর মৃত্যুর পর ওই ভবন সংগ্রহশালা ও লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত হয়। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ওই চত্বরে গড়ে তোলেন প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহশালা, যেখানে দেশের সব প্রধানমন্ত্রীর অবদান প্রদর্শিত হচ্ছে।