পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, বেআইনি দখলকারীদের উচ্ছেদ, ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এই রাজ্যে উত্তর প্রদেশের ধাঁচে চালু করা হবে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’। মানুষের নিরাপত্তা, নারীদের সুরক্ষা, বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদে এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন শুভেন্দু।
রাজ্যে বুলডোজার সংস্কৃতি চালুর ঘোষণাকারী শুভেন্দু অধিকারী এখন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের পরপরই তিনি চালু করলেন ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’। এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ প্রথম শুরু করেছিলেন উত্তর প্রদেশের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
শুভেন্দু অধিকারীও এবার যোগী আদিত্যনাথের দেখানো পথ ধরেই হাঁটলেন। প্রথমে তিনি এই রাজ্যে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু করেন কলকাতার উপকণ্ঠের তপশিয়া-তিলজলা অঞ্চলে। সেখানের একটি অবৈধ চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে দুজনের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় ওই অবৈধ কারখানা।
এ ঘটনার রেশ ধরে বসিরহাটের হাসনাবাদের তালপুকুর এলাকার তৃণমূল নেতা সাদ্দাম হোসেনের অবৈধভাবে তৈরি করা ভবনটি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ভেঙে দেওয়া হয়। সাদ্দাম হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন ঘরামির জায়গা দখল করে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এ নিয়ে গিয়াস উদ্দিন হাইকোর্ট থেকে ওই বাড়ি ভাঙার নির্দেশ পেলেও তৃণমূলের দাপুটে নেতা সাদ্দাম হোসেনের হুমকিতে পুলিশও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর নির্দেশে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় ওই অবৈধ বাড়ি। এর আগে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার মিতালী সংঘের খেলার মাঠে অবৈধভাবে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জীব দাস। এ নিয়ে মামলা হলে কলকাতা হাইকোর্ট ওই ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে ফেলার আদেশ দিলেও এত দিন তা ভাঙা হয়নি। সরকার বদলের পরেই ওই ওয়াচ টাওয়ার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে হাওড়া স্টেশনের কাছের সব অবৈধ দোকান বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করে দেয় প্রশাসন। রাতেই মাইকে অবৈধ দোকানের মালিকদের দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানোর পরেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ করেন অবৈধ দোকানপাট।
কলকাতায় শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের রাজ্য কমিটির সভা। রোববার ছিল এই সভার দ্বিতীয় বা শেষ দিন।
সভায় যোগ দেন সিপিএমের বিভিন্ন জেলার নেতারা। এই সভা এবারের বিধানসভার নির্বাচনের পর প্রথম বসেছে। সিপিএম এবার একটি আসনে জয়ী হয়ে শূন্য থেকে একটি আসন পেয়ে সম্মান রক্ষা করেছে।
সভায় সিপিএমের নেতারা তাঁদের আলোচনায় বলেছেন, এখন ধর্মকর্ম এড়িয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না। সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মাচরণ এক নয়।
সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়লেও ধর্মাচারণের বিরুদ্ধে লড়া যায় না। তাই এখন সিপিএমের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মাচারণ নিয়ে মূল্যায়ন হচ্ছে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান আলেকজান্ডার বেবি, যিনি এম এ বেবি নামে পরিচিত তিনিও শুধু একটি কথা বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মাচরণের মধ্যে রয়েছে আকাশপাতাল ফারাক। দলকে তা বুঝতে হবে। মূল কথা, এই বৈঠকে সিপিএম নেতারা প্রকারান্তরে বোঝাতে চেয়েছেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এখন লড়াই করলেও ধর্মাচরণকে আলাদাভাবে দেখে পূজা কমিটি, মন্দির কমিটি, মসজিদ কমিটি ও গির্জা কমিটিতে দলকে সম্পৃক্ত করা উচিত।
উত্তরবঙ্গের ‘চিকেন’স নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর) দিয়ে চলে যাওয়া সাতটি জাতীয় সড়কের দায়িত্ব এবার রাজ্য সরকার তুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই সড়কগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দাবি ওঠে। এতে সায় দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অবশেষে উত্তরবঙ্গের সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এই সাত জাতীয় সড়ককে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
কেন্দ্রীয় সরকারই এই সব সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই সাত জাতীয় সড়ক রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাজুড়ে। এই সাত জাতীয় সড়ক কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও এক বছর আগে এই সড়কগুলোর দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের হাতে তুলে নিতে চাইলে তাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন মমতা।