
ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় ‘কর্মভূমি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ জন্য আগামী ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে এক লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। বন্দর, কারিগরি খাত, বিদ্যুৎ, সড়ক ও সেতু, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন খাতে এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার আলীপুরের তাজ বেঙ্গলে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৌতম আদানি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তিন দশক আগে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর দিয়ে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল। মুন্দ্রা তাঁর প্রথম কর্মভূমি। এবার বাংলাকে দ্বিতীয় কর্মভূমি করতে চান তিনি।
গৌতম আদানি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের পাশেই খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ঝাড়খন্ড, ওডিশা ও ছত্তিশগড়। আবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেও বাংলার গুরুত্ব রয়েছে। ফলে বন্দর, কারিগরি খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ, সড়ক, সেতু, গ্রিন সিমেন্ট এবং ডেটা সেন্টারের মতো খাতে এখানে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আদানি বলেন, ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখন দেশের পূর্বাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভারতের পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পূর্বাঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, এই লক্ষ্য পূরণে বাংলার গুরুত্ব রয়েছে।
আদানি আরও বলেন, বাংলাকে আরেকটি গুজরাটে পরিণত করতে চান না। বরং বাংলার নিজস্ব শক্তি, সম্পদ, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন করতে চান। ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অংশীদারত্বও গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
বাংলার ইতিহাস ও মনীষীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন আদানি। স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সামগ্রিক ভাবমূর্তি গঠনে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কলকাতার নিউ টাউনে দুই হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও গৌতম আদানি এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। হাসপাতালটি নির্মাণে চার হাজার কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। দুই হাজার শয্যার মধ্যে এক হাজার শয্যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত থাকবে বলে আদানি জানিয়েছেন।
এদিন পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগের পাশাপাশি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার এবং কুমোরটুলি ঘাট পুনরুজ্জীবনের কথাও বলেন গৌতম আদানি। কলকাতার দুর্গাপূজাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগের কথাও তাঁর বক্তব্যে আসে।