চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পর পাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলছে
চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পর পাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলছে

সৌদি আরব থেকে ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ দূতাবাসের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বারবার হামলার প্রতিবাদে ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ দূতাবাসের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে রিয়াদ। তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের ‘সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন কর্মী’কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

রিয়াদের পক্ষ থেকে এমন এক সময়ে এ সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে ঘিরে অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে হামলা চালাচ্ছে আক্রান্ত ইরান।

তেহরানের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তারা হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরানের হামলায় দেশগুলোর বেসামরিক কেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

রিয়াদ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদ বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে একটি ড্রোন আরামকো-এক্সন শোধনাগারে আছড়ে পড়ে। এতে করে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে একমাত্র ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি করছে সৌদি আরব।

গতকালের বিবৃতির আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ইরানের ওপর ‘বিশ্বাস ভেঙে গেছে’। তার দেশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। সৌদি আরব ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যা প্রয়োজন হলে তাঁরা ব্যবহার করবেন।

সাত বছর পর ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার স্থাপিত হয়েছিল। এখন তা আবার তলানিতে এসে ঠেকেছে।

গতকাল দেওয়া বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের অব্যাহত হামলা বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে।

সৌদির আগে বুধবার কাতারও তাদের দেশ থেকে ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।