মঙ্গলবার গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-কায়ালি ভবনের ওপরের তিনটি তলা হামলার শিকার হয়
মঙ্গলবার গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-কায়ালি ভবনের ওপরের তিনটি তলা হামলার শিকার হয়

ইসরায়েলের হামলায় হামাসের সামরিক শাখার নতুন প্রধানও নিহত

গাজা উপত্যকায় গতকাল মঙ্গলবার এক হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার নতুন কমান্ডার মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। এর কিছুদিন আগে একই ধরনের আরেক হামলায় তাঁর পূর্বসূরি নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গাজা নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ত বাজার এলাকাগুলোর একটিতে এক আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। এতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, কয়েক মাস ধরে ওদেহ–এর গতিবিধির ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। ওদেহ যেসব ভবনে আত্মগোপন করে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, হামলায় ওদেহ, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হয়েছেন।

অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই সহিংসতা চলছে।

মঙ্গলবার গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-কায়ালি ভবনের ওপরের তিনটি তলা হামলার শিকার হয়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তখন আশপাশের রাস্তাগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে প্রায় একই সময়ে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, হামলার আগে তিনি আকাশে একটি হেলিকপ্টারের চক্কর দেওয়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন আর আশপাশে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছেন।

ইসরায়েলের উগ্রপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ ও নিরাপত্তা বাহিনী শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ওদেহকে হত্যা করতে চালানো যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে গাজা নগরীর কেন্দ্রস্থলে থাকা কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। সেগুলো তাঁর আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাঁর এবং সংগঠনে থাকা সহযোগীদের চলাচল শনাক্ত করতে কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছিল।

পরে হামাসের স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে ওদেহ ও তাঁর স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ওদেহর ছেলে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজ বুধবার সকালে তিনি মারা যান।

এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওদেহ–এর পূর্বসূরি ইজ আদ–দীন আল–হাদ্দাদ নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একটি সূত্রের মতে, সেই হামলাও একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং এতে অন্তত তিনজন নিহত হন।