প্রতীকী। ছবি: রয়টার্স
প্রতীকী। ছবি: রয়টার্স

ককপিটে কতজন পাইলট থাকেন, সেখানে কে কী করেন

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী একটি উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় প্রধান পাইলটকে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় অল্পের জন্য উড়োজাহাজে থাকা ১৭৪ যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিলেন ইসরায়েলের নাগরিক। উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটির যাত্রীরা নিরাপদে ইসরায়েলে পৌঁছান।

ফ্লাইটের বন্ধ ককপিটে দুই পাইলটের মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা আকাশপথে যাতায়াতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ফ্লাইট পরিচালনার সময় একটি উড়োজাহাজের ককপিটে কতজন পাইলট থাকেন, তাঁরা কে কী দায়িত্ব পালন করেন, কী কী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হয়, কীভাবে একজন পাইলট ধারালো অস্ত্র নিয়ে উড়োজাহাজে উঠলেন, সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সেদিন কী ঘটেছিল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিট (জিএমটি ৩টা ৫ মিনিট)। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড়াল দেয় ফ্লাইট এফজেড১০৭৩। গন্তব্য ইসরায়েলের তেল–আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি তখন মাঝ আকাশে। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেটির গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার কথা। হঠাৎই সবকিছু এলোমেলো। উড়োজাহাজটি তখন ওমানের আকাশে, সময় জিএমটি ৫টা ২১ মিনিট (ইউএই সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিট)।

হুট করে উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও তখনো যাত্রীদের কেউই বুঝতে পারেননি, উড়োজাহাজে আসলে কী ঘটছে। ককপিটে কত ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে।

যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি তখন মাঝ আকাশে। সবকিছু ঠিকই আছে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেটির গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। উড়োজাহাজটি তখন ওমানের আকাশে, সময় জিএমটি ৫টা ২১ (ইউএই সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিট)।

ককপিটে কী ঘটেছিল

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে ককপিটে দুই পাইলটের ধস্তাধস্তি হয়। সহকারী পাইলট ছুরি হাতে প্রধান পাইলটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন।

প্রধান পাইলটের নাম স্মিথ মছার। তিনি ভারতীয়। সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক বলে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি এখনো কেউ নিশ্চিত করেনি।

সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত প্রধান পাইলট স্মিথ কোনোরকমে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হলে কয়েকজন ক্রু ও যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে ধরে ফেলেন।

সে সময় ককপিটে ছুটে গিয়েছিলেন উড়োজাহাজের যাত্রী শোতা মুসায়েভ। পেশায় দন্তচিকিৎসক তিনি। সিএনএনকে তিনি বলেন, ককপিটে গিয়ে তাঁরা দেখেন, হামলাকারী মেঝেতে পড়ে থাকা পাইলটের (স্মিথ) ওপর বসে তাঁকে ছুরিকাঘাত করছেন।

যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপ–টাই দিয়ে হামলাকারীর হাত–পা বেঁধে ফেলেন।

উড়োজাহাজে থাকা বাড়তি দুই পাইলট ককপিটে ঢুকে কন্ট্রোল প্যানেলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির জরুরি অবতরণ করেন। এ দুই পাইলটের ইসরায়েল থেকে ফিরতি ফ্লাইটের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। বিকল্প ওই দুই পাইলট ইউরোপীয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছার

উড়োজাহাজে দুই পাইলট কে কী দায়িত্ব পালন করেন

একটি উড়োজাহাজের প্রধান পাইলটকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলা হয়। তিনি পাইলট–ইন–কমান্ড (পিআইসি) নামেও পরিচিত। তিনি একটি উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার পাইলট। উড়োজাহাজ পরিচালনা ও ফ্লাইটের নিরাপত্তার চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকে ক্যাপ্টেনের ওপর। তিনি ফ্লাইট ক্রু দলের নেতৃত্ব দেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

সহকারী পাইলট বা কো–পাইলটকে ফার্স্ট অফিসারও বলা হয়। তিনি হলেন ককপিটে ক্যাপ্টেনের পর দ্বিতীয় দায়িত্বশীল পাইলট। তিনি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার দায়িত্ব ভাগ করে নেন। নেভিগেশন, যোগাযোগ ও উড়োজাহাজের বিভিন্ন ‘কন্ট্রোল সিস্টেম’ পর্যবেক্ষণসহ নানা কাজে তিনি ক্যাপ্টেনকে সহায়তা করেন।

তবে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিশ্রামের প্রয়োজনের কারণে তিন বা চার পাইলটও থাকতে পারেন।

সৌদি আরবের শীর্ষ উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ক্যাপ্টেন বা প্রধান পাইলট ও সহকারী পাইলট দুজনই আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেবিনের ভেতর থেকে ভিডিও করা যাত্রীরা ছুরিকাহত পাইলটকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

‘ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আসা প্রতিটি উড়োজাহাজের পাইলটের পরিচয় আমরা যাচাই করি, তাঁরা কারা, তা জানি এবং তাঁদের সব ধরনের নিরাপত্তা যাচাই করা হয়।
ডোরন স্পিলম্যান, নেতানিয়াহুর মুখপাত্র

সহকারী পাইলট কীভাবে ছুরি নিয়ে ককপিটে গেলেন, নিয়ম কী

রাজনীতির বিষয়টি না হয় বাদ দেওয়া যাক। কিন্তু গতকালের এই ঘটনা যে প্রশ্নটি সবার আগে মনে উঁকি দিয়েছে, সেটি হলো একটি উড়োজাহাজের ককপিটে একজন পাইলট ধারালো অস্ত্র নিয়ে কীভাবে ঢুকলেন? এ প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সাধারণ নিয়মে একটি যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে সাধারণ যাত্রীদের মতো পাইলট ও ক্রুদেরও কড়া নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ক্রু সদস্যদেরও এক্স–রে মেশিন, মেটাল ডিটেক্টর ও বডি স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

সাধারণ যাত্রীদের মতো পাইলট ও ক্রুদের যেকোনো ধরনের নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক ধারালো বস্তু (যেমন: নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের বেশি বড় ছুরি ও অস্ত্র) বহন করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি।

তবে বিমানবন্দরগুলোয় পাইলট ও ক্রু সদস্যদের জন্য সাধারণত আলাদা চ্যানেল বা ফাস্ট ট্র্যাক সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট থাকে। এটি করা হয় যাতে উড্ডয়নের নির্ধারিত সময়ের আগে তাঁরা দ্রুত ফ্লাইটে পৌঁছাতে পারেন।

কিছু কিছু বিমানবন্দরে ক্রু সদস্যদের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা আইডি কার্ড যাচাই বেশি গুরুত্ব পায়, ফলে দৈহিক বা ব্যাগেজ তল্লাশি কখনো কখনো যাত্রীদের তুলনায় দ্রুত বা খানিকটা শিথিল প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এটিকেই বর্তমান নিরাপত্তা পর্যালোচনায় একটি সম্ভাব্য বড় ফাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের যাত্রীদের পরে সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়

অন্যদের চেয়ে ইসরায়েল কেন আলাদা

বিশেষ করে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটে একজন পাইলট কীভাবে ছুরি হাতে ককপিটে উঠে গেলেন, তা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলগামী ফ্লাইটগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। যাত্রীদের উড্ডয়নের আগে প্রাথমিক নিরাপত্তা যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়, পাসপোর্ট একাধিকবার পরীক্ষা করা হয়, অত্যাধুনিক স্ক্যানারের মাধ্যমে লাগেজ তল্লাশি করা হয় এবং কখনো কখনো পুরো শরীরও স্ক্রিনিং করা হয়।

পাইলট ও ক্রুদেরও একই রকম নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আসা প্রতিটি উড়োজাহাজের পাইলটের পরিচয় আমরা যাচাই করি, তাঁরা কারা, তা জানি এবং তাঁদের সব ধরনের নিরাপত্তা যাচাই করা হয়।’

এ ছাড়া বিদেশি কোনো এয়ারলাইনস ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলে আগে দেশটির এভিয়েশন সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারের অনুমোদন নিতে হয়।

একটি উড়োজাহাজের প্রধান পাইলটকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলা হয়। তিনি পাইলট–ইন–কমান্ড (পিআইসি) নামেও পরিচিত। তিনি একটি উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার পাইলট। উড়োজাহাজ পরিচালনা ও ফ্লাইটের নিরাপত্তার চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকে ক্যাপ্টেনের ওপর। তিনি ফ্লাইট ক্রু দলের নেতৃত্ব দেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

উদ্বেগজনক ফাঁক

নাইন/ইলেভেন হামলার পর কেবিন থেকে পাইলটের অনুমতি ছাড়া ককপিটে ঢোকা আটকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জার্মানউইংস ফ্লাইট ৯৫২৫ (যেখানে পাইলট আত্মহত্যা করতে উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছিলেন) ঘটনার পর পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু গতকালের এই ঘটনার পর প্রচলিত এসব নিরাপত্তাব্যবস্থায় উদ্বেগজনক একটি বড় ফাঁক থাকার বিষয় সামনে এসেছে। সেটি হলো, নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো মূলত কেবিন থেকে আসা হুমকি ঠেকানোর জন্য। ২০০১ সালের পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে ককপিটে শক্তিশালী দরজা বসানো হয়, যার উদ্দেশ্য কেবিনের যাত্রীদের ককপিটে ঢোকা ঠেকানো।

কিন্তু ককপিটে বসে থাকা কারও কাছ থেকে আসা হুমকি ঠেকাতে এই দরজা কোনো সুরক্ষা দেয় না। এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের দরজাটিও পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আহত প্রধান পাইলট কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার আগে বিপদ টের পেয়ে যাত্রীরা ককপিটে পৌঁছাতে জোর করে দরজাটি খোলার চেষ্টা করেছিলেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের যাত্রীরা। সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরব ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। অভিযুক্ত পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গতকাল আরও বলেছেন, ‘এই হামলাকারীর বিষয়ে আমরা আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করব। তাঁর কোনো সহযোগী ছিলেন কি না, এর পেছনে ইরানের হাত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখব। আমার মনে হয়, খুব শিগগির আমরা এসব জানতে পারব।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করে এর সব আরোহীকে হত্যা করা। তিনি ঘটনাটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

এ ঘটনায় এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল–জাজিরা, সিএনএন, অ্যারোটাইম ডট অ্যারো, মিগফ্লাগ ডটকম