
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে ভারতগামী দুটি জাহাজ— ‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাসংবলিত স্পিডবোটগুলো জাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরপর মুখে মাস্ক পরা ও রাইফেলধারী সেনারা জাহাজে উঠে পড়ছেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত ‘নূর নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইপামিনোন্ডাস জাহাজটি ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করার’ পর নিরাপত্তা বাহিনীরা সদস্যরা সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ‘ইউফোরিয়া’ নামের দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজের ওপরও গুলি চালানো হলে সেটি থেমে যায়। এ ছাড়া ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামক তৃতীয় আরেকটি জাহাজকেও নিশানা করা হয়।
এক বিবৃতিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী দুটি জাহাজ শনাক্ত করে থামিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমএসসি ফ্রান্সেসকা ‘জায়নবাদী শাসনের’ (ইসরায়েল) মালিকানাধীন। এপামিনোন্ডাস জাহাজটি ‘দিক নির্ণয়ব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি করছিল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল।’
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্য করার বিরুদ্ধে এবং জলপথ দিয়ে ‘নিরাপদ চলাচলের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের’ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করাকে ইরানের জন্য চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই নৌ-সংঘাতের ঘটনাটি সামনে এল। সিএনবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে ইঙ্গিত দেন, একটি নতুন চুক্তির মাধ্যমে ইরান একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি একটি চুক্তি করে, তবে তারা খুব ভালো অবস্থানে যেতে পারে। তিনি তেহরানের পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
নৌ-অবরোধ বজায় রাখা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরান সরকারকে বাস্তবসম্মত কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের বিচারবুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করতে হবে। তারা নিজেদের একটি বড় দেশে পরিণত করে দারুণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
আমেরিকার প্রতি ইরানের ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে সমালোচনা
তবে তেহরানে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সন্দেহের মুখে পড়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ‘ভণ্ডামি’ এবং পরস্পরবিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র বরাবরই সংলাপ ও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জানাবে। অসৎ উদ্দেশ্য, অবরোধ ও হুমকিই হলো প্রকৃত আলোচনার মূল বাধা।