তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি

গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ট্রাম্প

গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক করতে ঘোষণা করা ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যুক্ত হতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আঙ্কারা ও কায়রোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শান্তি পর্ষদে এ দুই নেতাকে যুক্ত হতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজা ইস্যুতে নিজের শান্তি পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প। পরে অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এ পরিকল্পনায় সম্মতি জানায়। পরিকল্পনায় বলা হয়, একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বডি বা গাজার অন্তর্বতী প্রশাসনের ওপর তদারকির দায়িত্ব পালন করবে ‘বোর্ড অব পিস’।

গত শুক্রবার শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন। আরও থাকছেন মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল ও জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ।

হোয়াইট হাউস বলেছে, শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প নিজেই থাকবেন। এর মাঝেই এরদোয়ান ও সিসিকে এ পর্ষদে যুক্ত হতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানা গেল।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র গতকাল শনিবার সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানান, এরদোয়ান এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

একই দিন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পর্ষদে যোগ দিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আল-সিসি যে আমন্ত্রণ পেয়েছেন, সেটি পর্যালোচনা করছে তাঁর দেশের সরকার।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি তাণ্ডবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ-শিশু নিহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্যসংকট। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার পুরো জনগোষ্ঠী। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫০ জনের বেশি জিম্মি হওয়ার ঘটনার পর তারা আত্মরক্ষার্থেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়। এখন পর্ষদের অধীন গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথমে গাজাবাসীর জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করবে।

তবে এ পর্ষদের ঘোষণার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনিরা।