দক্ষিণ ইসরায়েলের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের টহল। ৩০ মার্চ, ২০১৯
দক্ষিণ ইসরায়েলের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের টহল। ৩০ মার্চ, ২০১৯

ইরান যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে গোপনে সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে গোপনে নিজেদের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ দল মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের গোপন স্থাপনার যে নেটওয়ার্ক রয়েছে, এটি ছিল তারই অংশ। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সহজ করতেই এমনটি করা হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন চারটি সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য জানিয়েছে।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় অবস্থান নিয়ে এসব দল কাজ করত। জায়গাগুলো ইরানের উত্তর সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। সবচেয়ে কাছের অবস্থানটি ছিল ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে। যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এই তাবরিজ শহরে হামলা চালিয়েছিল।

অন্য দুটি সূত্র জানায়, ওই জায়গায় ইসরায়েলের বিশেষ কমান্ডো দলও মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন পরিচালনার কাজ করত। যুদ্ধের সময় উত্তর ইরানের ওপর নজর রাখার জন্য এটি ইসরায়েলের জন্য একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছিল।

আজারবাইজানে এই গোপন সেনা মোতায়েনের খবরটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে সিএনএন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েল যেসব সামরিক অবস্থান তৈরি করেছিল, এটি তার মধ্যে অন্যতম। এর ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এমন অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিল, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এটি প্রমাণ করে, তেহরানের বিরুদ্ধে হামলায় ইরানের প্রতিবেশীদেরও ভূমিকা ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী কিছু দেশের সম্মতি নিয়ে আর কিছু দেশের অজ্ঞাতে এই কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। এভাবেই ইরানের প্রতিবেশীরা এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।

সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, আজারবাইজানের ওই জায়গাগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে ইসরায়েলের গোপন সামরিক স্থাপনা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ড। প্রথমে জরুরি অবস্থায় উদ্ধারকারী দল হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও পরে এই বাহিনীগুলোর কাজের পরিধি বাড়িয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো কাজ করেছিল।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব মোতায়েনের ফলে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তর সীমানার কাছে অবস্থান নিতে পেরেছিল। এতে তাদের সামরিক ক্ষমতা কয়েক শ মাইল প্রসারিত হয়ে ইরানের অনেক ভেতরের এলাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এসব অগ্রবর্তী অবস্থানের কারণেই ইসরায়েল ইরানজুড়ে বারবার হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

আজারবাইজানে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি ইচ্ছা করেই হালকা করে দেখানো হয়, যা মূলত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে টিকে রয়েছে।
গেরশোন কোগান, ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ

একটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজানের এই অভিযানে কয়েক ডজন সেনা অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইসরায়েলের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য, হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ ও উদ্ধারে অভিজ্ঞ এলিট বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারাও ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে যে ভিত্তিহীন দাবি করা হচ্ছে, আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এ ছাড়া এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিএনএনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলে অবস্থিত স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলকে আরও একটি সামরিক অবস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিল। এর ফলে ইরানে দূরপাল্লার বিমান হামলার সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সম্ভবত সেখানে থামার সুযোগ পেয়েছিল। ডিসেম্বরে ইসরায়েলই প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এ ছাড়া সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বারবেরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের গোপন সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের খবরটিও সিএনএনই প্রথম প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কিছু সময় ধরে ইরাকেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দুটি গোপন স্থাপনা ছিল। সেখান থেকে ইসরায়েল সামরিক রসদ সরবরাহের সুবিধা পেত। পাশাপাশি দরকার হলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য এগুলো অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত ছিল। ইরাকে থাকা এই দুটি স্থাপনার খবর প্রথম প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমস। তবে এক বিবৃতিতে ইরাকের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্চের শুরু পর্যন্ত তাদের দেশে কোনো ‘অননুমোদিত ঘাঁটি বা বাহিনী’ ছিল না।

মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থা বসিয়েছিল। এগুলো চালানোর জন্য সেনাও পাঠানো হয়েছিল। সিএনএন আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মোসাদ প্রধান ও ইসরায়েলি সেনাপ্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন। তবে এই খবর প্রকাশের পর আমিরাত শক্ত ভাষায় এই সফরের কথা অস্বীকার করে।

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকাটি বিশাল এবং সেখানে জনবসতি খুবই নগণ্য

‘আজারবাইজান কৌশলগত অংশীদার’

আজারবাইজানে সামরিক উপস্থিতির কারণে ইসরায়েল আরও একটি ঘাঁটি পেয়ে যায়। ফলে ইরানের হামলায় কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে পাইলটদের উদ্ধারে আকাশপথে অভিযান চালানোর সুযোগও তৈরি হয়। পাশাপাশি এখান থেকে তারা ইরানের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করত।

ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই আজারবাইজানকে একটি কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে আসছে। যুদ্ধে প্রথম হামলা চালানোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ইরানে বিশাল এক বিক্ষোভ হয়। তখন কঠোরভাবে সেই আন্দোলন দমন করে ইরান। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরিকল্পনার বিষয়ে জানেন এমন দুটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ঠিক ওই সময়েই আজারবাইজান-ইরান সীমান্তে একটি গোপন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল। সূত্রগুলো জানায়, এটি ছিল একটি প্রাথমিক অভিযান। সেখানে আড়িপাতার যন্ত্র এবং গোয়েন্দা সরঞ্জাম বসিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধের প্রথম হামলার আড়ালে তারা এই গোপন অভিযানটি চালাবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ওই হামলা বাতিল করে দেন। তিনি জানান, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।

ইসরায়েল একাই নিজেদের মতো করে এগিয়ে যায়।

ওই আড়িপাতার যন্ত্রগুলো বসানোর জন্য ইসরায়েলি বিমানবাহিনী রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগায়। কারণ, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তথ্য সংগ্রহের এই ঘাঁটি ইসরায়েলের জন্য আরেকটি সুবিধা হয়ে আসে। এর মাধ্যমে তারা ইরানের সামরিক বাহিনীর তৎপরতা ও স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারত। এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সতর্কবার্তা আগে থেকেই দিতে পারত।

এর দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার আজারবাইজানের রাজধানী বাকু সফর করেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে আজারবাইজান অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে এক বিরল ও সরাসরি আলোচনার আয়োজন করেছিল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজান থেকে চালানো একটি বড় অভিযান ছিল ৪ মার্চের একটি হত্যাকাণ্ড। ওই দিন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মোগাদ্দাম।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজান থেকে চালানো একটি বড় অভিযান ছিল ৪ মার্চের একটি হত্যাকাণ্ড। ওই দিন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মোগাদ্দাম।

ঠিক এক দিন পর আজারবাইজানের ছিটমহল নাখচিভানের একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়। এতে একটি টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এর জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি এটিকে ‘কুৎসিত, কাপুরুষোচিত ও নির্লজ্জ সন্ত্রাসী কাজ’ বলে আখ্যা দেন। তবে ইরান এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করে।

৬ মার্চ আজারবাইজানের স্টেট সিকিউরিটি সার্ভিস ঘোষণা দেয়, তারা আইআরজিসির একটি হামলার ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে। তারা জানায়, আইআরজিসির লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি ইসরায়েলি ও ইহুদিদের বিভিন্ন নিশানায় হামলা চালানো। কয়েক সপ্তাহ পর ইসরায়েল প্রকাশ্যে স্বীকার করে, মোসাদ, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত যৌথভাবে ওই অভিযান চালিয়েছিল।

ব্যবসায়িক ও সামরিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল এবং আজারবাইজানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আজারবাইজান ইসরায়েলের তেলের একটি বড় অংশের জোগান দেয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েল আজারবাইজানের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি করে। ২০১৬ ও ২০২০ সালে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধে এসব অস্ত্রের কিছু ব্যবহার করা হয়েছিল। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আজারবাইজানই প্রথম ২০১৬ সালে ইসরায়েল থেকে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছিল।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গেরশোন কোগান লিখেছিলেন, ‘আজারবাইজানে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি ইচ্ছা করেই হালকা করে দেখানো হয়, যা মূলত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে টিকে রয়েছে।’

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জশুয়া কুসেরার মতে, ‘এই সম্পর্ক আজারবাইজানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুবিধাও এনে দিয়েছে, যার ফলে বাকু (আজারবাইজান সরকার) ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রভাবকে কাজে লাগাতে পারে।’

কুসেরা আরও বলেন, ‘আজারবাইজান ক্রমশ নিজেদের একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে তারা অনেক সময় ইসরায়েল, আরব বিশ্ব ও অন্যান্য দেশের মধ্যে যোগাযোগের একধরনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।’

ক্রাইসিস গ্রুপের এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘আইআরজিসির অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে আজারবাইজান যদি ইসরায়েলকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়।’