ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল সোমবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘কিছুটা সময়’ ধরে চলতে পারে। কিন্তু তা বছরের পর বছর ধরে চলবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
এর পর থেকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত, সীমাহীন যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে অঞ্চলটিতে আগের যুদ্ধগুলোর মতো এই সংঘাত বছরের পর বছর ধরে চলবে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু।
ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বলেছি, এটি (যুদ্ধ) দ্রুত ও নিষ্পত্তিমূলক হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু এটি বছরের পর বছর চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।’
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, তিনি এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ দেখছেন, যার মধ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত।
নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ দেখছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দেখি।’
রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চার মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা সমর্থন করেন।
ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন যুদ্ধ অনেক মার্কিন নাগরিককে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছে যে বিদেশি ভূখণ্ডে ওয়াশিংটনের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যাতে ইরানি জনগণ তাদের সরকার উৎখাতের সুযোগ পেতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন অবশ্য শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। কিন্তু আমরা—আমেরিকা ও ইসরায়েল একসঙ্গে তাদের (ইরানি জনগণ) সেটা করতে পারার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছি।’
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের লক্ষ্য ও সময়সূচি পরিবর্তিত হয়েছে। শনিবার যখন তিনি হামলার ঘোষণা দেন, তখন ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনাদের দেশ ফেরত নিন।’ এ কথার মধ্য দিয়ে তিনি ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু গতকাল করা মন্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সরকার উৎখাতের কোনো কথা বলেননি। তিনি বলেন, যুদ্ধটি দরকার ছিল, যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকে, যাতে তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম থামানো যায়।