
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা পোষা বিড়ালকে খুঁজতে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহকর্মী যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই সহকর্মীর বাড়ি থেকেই বিড়ালটি হারিয়েছে। এখন বিড়ালটিকে খুঁজে বের করতে দুই সহকর্মী মিলে ৩ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
ছোট ও লাজুক স্বভাবের অ্যারাবিয়ান মাউ প্রজাতির এই বিড়ালের নাম ল্যান্ডো। সাদা রঙের বিড়ালটির গায়ে কমলা-বাদামি রঙের দাগ আছে। গত ২৯ নভেম্বর দুবাইয়ের ল্যান্ড রেসিডেন্স কমপ্লেক্স এলাকা থেকে ল্যান্ডো নিখোঁজ হয়।
দুবাইয়ের একটি ব্রিটিশ কারিকুলাম স্কুলের সংগীত শিক্ষক পিটার হপকিন্স ল্যান্ডোকে পুষছিলেন। পিটার শীতকালীন ছুটিতে যাওয়ার সময় তাঁর সহকর্মী হ্যালে রেনল্ডস তাঁকে আশস্ত করেছিলেন যে ওই সময় তিনি ল্যান্ডোর দেখভাল করবেন। কিন্তু পিটার ছুটিতে থাকাকালে রেনল্ডসের বাসা থেকে ল্যান্ডো নিখোঁজ হয়।
দুবাইয়ের একটি ব্রিটিশ কারিকুলাম স্কুলের সংগীত শিক্ষক পিটার হপকিন্স ল্যান্ডোকে পুষছিলেন। পিটার শীতকালীন ছুটিতে যাওয়ার সময় সহকর্মী হ্যালে রেনল্ডস তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ওই সময় তিনিই ল্যান্ডোর দেখভাল করবেন। পিটার ছুটিতে থাকাকালে রেনল্ডসের বাসা থেকেই ল্যান্ডো নিখোঁজ হয়।
গালফ নিউজকে রেনল্ডস বলেন, দুবাইয়ের ল্যান্ড রেসিডেন্স কমপ্লেক্স এলাকার পার্ক প্লেস রেসিডেন্সে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে ল্যান্ডো হারিয়ে যায়। তিনি ভুলবশত রাতভর বারান্দার দরজা খোলা রেখে দেওয়ায় এমনটা হয়েছে।
জীববিজ্ঞানের এই শিক্ষক বলেন, ‘আমি খুব অপরাধবোধে ভুগছি। ও আমার তত্ত্বাবধানে ছিল। পালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি বারান্দার দরজাটা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার পাঁচটি বিড়াল বারান্দায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। আর পরদিন সকালে দেখি, ও নেই।’
আমি খুব অপরাধবোধে ভুগছি। ও আমার তত্ত্বাবধানে ছিল। পালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি বারান্দার দরজাটা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার পাঁচটি বিড়াল বারান্দায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। আর পরদিন সকালে দেখি, ও নেই।হ্যালে রেনল্ডস, বিড়ালের মালিক পিটার হপকিন্সের সহকর্মী
চার বছর ধরে দুবাই ল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত এই অস্ট্রেলীয় শিক্ষক বলেন, এর আগে গ্রীষ্মকালেও তিনি কোনো সমস্যা ছাড়া ল্যান্ডোর দেখাশোনা করেছিলেন। তাঁর ধারণা, ১৮ মাস বয়সী বিড়ালটি হয়তো ভয় পেয়ে বারান্দা থেকে লাফ দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, নিচে পড়ে গিয়ে থাকলেও ল্যান্ডোকে শনাক্ত করার মতো সেখানে রক্ত বা আঘাতের চিহ্নের মতো আলামত পাওয়া যায়নি।
ল্যান্ডোর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর থেকে রেনল্ডস প্রতিদিন আশপাশের এলাকায় তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পার্ক ও অ্যাকুইলা স্কুলের আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান করছেন।
ইতিমধ্যে দুবাইয়ের ল্যান্ড রেসিডেন্স কমপ্লেক্স এলাকাজুড়ে নিখোঁজ বিড়ালের সন্ধান চেয়ে পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে। দুই শিক্ষক পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রেনল্ডস বলেন, ‘অনেক মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এমনকি কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থীও…এ কমিউনিটির সবাই খুব আন্তরিক। তাঁরাও বিড়ালটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এটা সত্যিই অনেক স্বস্তির।’
চার বছর ধরে দুবাই ল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত অস্ট্রেলীয় শিক্ষক রেনল্ডস বলেন, এর আগে গ্রীষ্মকালেও তিনি কোনো সমস্যা ছাড়া ল্যান্ডোর দেখাশোনা করেছিলেন। তাঁর ধারণা, ১৮ মাস বয়সী বিড়ালটি হয়তো ভয় পেয়ে বারান্দা থেকে লাফ দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, নিচে পড়ে গিয়ে থাকলেও ল্যান্ডোকে শনাক্ত করার মতো সেখানে রক্ত বা আঘাতের চিহ্নের মতো আলামত পাওয়া যায়নি।
ল্যান্ডোর মনিব হপকিন্স ছুটি কাটানো শেষে চলতি মাসের শুরুতে দুবাই ফেরেন। ফেরার পরপরই তিনি রেনল্ডসের সঙ্গে মিলে ল্যান্ডোর খোঁজ করে যাচ্ছেন।
হপকিন্স বলেন, ‘ওকে ছাড়া ভীষণ একা লাগে, একেবারেই…চোখের কোণে সামান্য আলো দেখলেই বারবার মনে হয়, ওকে দেখছি—একটা বিভ্রমের মতো ব্যাপার।’
ব্রিটিশ এই শিক্ষক আরও বলেন, তাঁর পরিবার স্পেনে থাকে। সেখানে তাঁর আরও দুটি বিড়াল রয়েছে। আট সপ্তাহ বয়সে ল্যান্ডোকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট এ বিড়ালকে তখন বিজনেস বে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। হপকিন্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত এক চিকিৎসক তাকে দত্তক নিতে আগ্রহী শিক্ষকদের খুঁজছিলেন।
হপকিন্স বলেন, ‘আমি খুব যত্ন করে তাকে ১৮ মাস ধরে বড় করেছি।’ সম্প্রতি মুখের সমস্যার কারণে ল্যান্ডোর নিচের দাঁত অপসারণে অস্ত্রোপচার করানোর খরচও জুগিয়েছেন তিনি।