
আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হটিয়ে দিতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ আহ্বান জানিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি লিখেছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ঘাঁটিগুলো থেকে আজ বুধবারের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করার কথা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এভাবে সরে আসাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের রাশ টানতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে বলে তিনি আশা করছেন।
এর মধ্যে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে এ চিঠি লিখেছে আইআরজিসি। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ পাতার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করুন ও বর্তমান নেতাদের দপ্তর থেকে হটান। সেই সঙ্গে ইসরায়েলকে সমর্থন ও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০১৬ সালে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ইরাকে মার্কিন অভিযানকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরও আজ বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে নেওয়া হয়েছিল।
আইআরজিসির এ চিঠি মার্কিন ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটা স্পষ্ট নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার হয়তো ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটি দেখবেন না। তবে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চিঠিতে এমন কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, যা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি—উভয়ের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এবারের মধ্যর্বর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। এমনটা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী দুষ্ট, প্রতারক আর সহিংস রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিবিদেরা যেন বুঝতে পারেন, পৃথিবী বদলে গেছে—এটা নিশ্চিত করুন।’
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না তিনি। সেই সঙ্গে চলমান সংঘাতের রাশ টানা ও মূল্যস্ফীতি কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। কথা রাখেননি ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যুদ্ধের রেশ ইরান ছাড়িয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও পৌঁছে গেছে।
২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করছেন ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
২০১৬ সালে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ইরাকে মার্কিন অভিযানকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরও আজ বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় নেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনের ২৩ বছর পর দেশটি থেকে পুরোপুরি সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে ইরাকের দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতন হয়। ইরাকজুড়ে দেখা দেয় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা। একপর্যায়ে দেশটিতে উত্থান ঘটে ইসলামিক স্টেটের (আইএস)।