ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বললেন নেতানিয়াহু

সহ–পাইলটকে কুপিয়ে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন পাইলট

দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী বিমানের পাইলটকে তাঁর সহ–পাইলটের ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আক্রমণকারী ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এক ভিডিও বিবৃতিতে জানিয়েছেন তিনি।

উড়োজাহাজে থাকা একজন ইসরায়েলি যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ওই ঘটনায় ‘একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ওই যাত্রীর বরাতে নেতানিয়াহু জানান, ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি ঘূর্ণিপাকে পড়ে যায়। ওই যাত্রী একজন ক্রু সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ককপিটে ঢুকতে সক্ষম হন। তাঁরা দুজন মিলে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে আটকে ফেলেন। তিনি (গ্রেপ্তার পাইলট) উড়োজাহাজের বিভিন্ন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করছিলেন।

একপর্যায়ে উড়োজাহাজে থাকা অন্য ফ্লাইট ক্রুরাও ককপিটে ঢোকেন জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের এই উড়োজাহাজটি জর্ডানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় ককপিটে এসব ঘটনা ঘটে। এরপর গতিপথ ঘুরিয়ে সৌদি আরবে সেটির জরুরি অবতরণ করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভিডিও বিবৃতি থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, ‘বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে (গ্রেপ্তার পাইলটকে) জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

সম্ভাব্য আরও হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের যাত্রীরা। সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের ঘটনাটি ছিল হামলার চেষ্টা। হামলাকারীর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করা।

উড়োজাহাজের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি চলাকালে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল। এতে কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

পাইলটদের মধ্যে মারামারির সময় উড়োজাহাজটি নাটকীয়ভাবে নিচে নেমে আসে। মাত্র দুই মিনিটে এটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে অ্যাম্বুলেন্স। ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড়োজাহাজটিতে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক ছিলেন। সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কর্মকর্তারা যুদ্ধবিমান পাঠান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তাবুকে অবতরণ করে। বিমানের ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।