এরফান সোলতানি
এরফান সোলতানি

ইরানে তরুণ বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে আজ

ইরানে বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজ বুধবার কার্যকর করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তাঁর বয়স ২৬ বছর।

নরওয়েভিত্তিক হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস এ খবর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি থেকে এরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তাঁর বিচার, দোষী সাব্যস্ত করা আর সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়।

রাজধানী তেহরানের উত্তর–পশ্চিমের শহর কারাজ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এরফান। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার আগে তখন শহরটিতে বিক্ষোভ তুঙ্গে ছিল। গত সপ্তাহে ইরানে হাজারো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদেরই একজন এরফান।

এরফানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও ‘ভিন্নমত দমন করার জন্য দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের বরাতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ১১ জানুয়ারি ইরানি কর্মকর্তারা এরফানের পরিবারকে মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিষয়টি জানিয়েছেন। ব্যাপক বিক্ষোভ আর ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পর্যবেক্ষণপ্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, চীনের পর ইরানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা ঘটে। গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপ।

২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ইরানে বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গতকাল ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন।

এ বিক্ষোভে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান সরকার।