
ইরানে গত মাসে পুলিশি হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, জার্মানির বার্লিন ও জাপানের টোকিওতে বিক্ষোভমিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ওয়াশিংটন ও বার্লিনে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
বিক্ষোভমিছিলে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে ছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত। আবার অনেকে ইরানে কখনো যাননি।
ইরানে নারীদের প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে ওয়াশিংটনে এ ধরনের বিক্ষোভ পঞ্চমবারের মতো হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারীরা ন্যাশনাল মল থেকে হোয়াইট হাউসের উদ্দেশে হেঁটে হেঁটে মিছিল বের করেছেন। মিছিলে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ এবং ‘ইরানের জন্য ন্যায়বিচার’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
আয়োজকদের একজন সিয়ামাক আরাম বলেছেন, ওয়াশিংটনে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ইরানে নারীদের নেতৃত্বে ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ চলছে।
আরাম এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটি অন্যতম বড় বিক্ষোভ।’ বিক্ষোভকারীদের অনেকে অন্য শহর থেকে এসেছেন। বোস্টন থেকে আসা ২৮ বছরের নারী মাহশিদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পরনে একটি টি–শার্ট ছিল। তাতে লেখা ছিল ‘ইরানকে মুক্ত করতে সহায়তা করুন।’
মাহশিদ তিন বছর আগে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশোনা করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই স্বৈরশাসককে আর চাই না। এই শাসকগোষ্ঠী আমাদের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করেছে।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারীরা হাতে কেশগুচ্ছ ছিল। তাতে লেখা ছিল ‘আমাদের চুল আপনাদের বিক্ষুব্ধ করতে পারে, তবে আমাদের ভাবনা আপনাদের শেষ করে দেবে।’
ইরানে কঠোর পর্দাবিধি লঙ্ঘন করায় গত মাসে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনিকে আটক করে পুলিশ। মাসা আমিনি পুলিশি হেফাজতে মারা যান। এরপর থেকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ইসলামি প্রজাততন্ত্রের এই দেশে গত কয়েক বছরে এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি।
ওয়াশিংটনে মার্জান নামে ৫৫ বছরের এক নারী বলেছেন, বিক্ষোভ সমাবেশে এমন অনেকে এসেছেন, যাঁরা আগে ইরানে থেকেছেন। আবার এমন অনেকে এসেছেন, যাঁরা ইরানে কখনো থাকেননি। এটি তাঁকে অভিভূত করেছে। মার্জান বলেন, বিভিন্ন বয়সের, ধর্মের, মতাবাদের মানুষ এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য থেকে ইরানে এসে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন নিগার। ৫৩ বছরের এই নারী বলেন, নারীদের নেতৃত্বে এটি অভূতপূর্ব একটি বিপ্লব।
বার্লিনেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছে।