
পবিত্র হজ আজ সোমবার শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত থেকে হজযাত্রীরা তাঁবুর নগর মিনায় যেতে শুরু করেছেন। হজযাত্রীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়ার দোয়া—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক...অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ। আমি হাজির, আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই, আর সব সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো শরিক নেই।’
হজযাত্রীরা যাতে সুচারুভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারেন, সে জন্য সৌদি আরব সরকার বিশাল স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও বহুভাষিক সেবা চালু করেছে। পবিত্র স্থানে আগামী কয়েক দিন হজযাত্রীদের হজের সময়সূচি বা কার্যক্রম কেমন হবে, তার একটি রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো।
১. মিনা
৮ জিলহজ: হজযাত্রীরা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (পবিত্র কাবা শরিফ) থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাঁবুর নগরী মিনায় এসে পৌঁছান। তাঁরা মিনায় দিন–রাত কাটান এবং ইবাদত ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।
২. আরাফাত
৯ জিলহজ: হজযাত্রীরা মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা আরাফাতের মরুভূমির প্রান্তরে অবস্থান করেন এবং একই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রার্থনা ও তওবা (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকেন।
৩. মুজদালিফা
৯ জিলহজ: হজযাত্রীরা মিনা ও আরাফাত পর্বতের মধ্যবর্তী উপত্যকা মুজদালিফার দিকে রওনা হন। তাঁরা সেখানে রাত যাপন করেন এবং মিনার জামারাতে ‘শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারার’ জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করেন।
৪. মিনা
১০ জিলহজ: ভোরের (ফজরের) নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তাঁরা জামারাত আল-আকাবায় (বড় শয়তানকে) প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।
৫. গ্র্যান্ড মসজিদ (পবিত্র কাবা শরিফ)
১০ ও ১২ জিলহজ: হাজিরা মক্কায় ফিরে আসেন এবং গ্র্যান্ড মসজিদ বা পবিত্র কাবা শরিফের দিকে যান। তাঁরা তাওয়াফ আল-ইফাদাহ (কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ) এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাঈ (দৌড়ানো) সম্পন্ন করেন।
৬. মিনা
১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ: হাজিরা তিন দিন ধরে জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন। তাঁরা শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করেন।
৭. পবিত্র মক্কা
হাজিরা মক্কার দিকে রওনা হন এবং বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-বিদা) সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমেই হজের সমাপ্তি ঘটে এবং হাজিরা চাইলে মক্কা ত্যাগ করতে পারেন।