সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন
সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন

আলেপ্পোতে সিরীয় সরকারের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর আজ শুক্রবার আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সিরিয়া সরকার।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আবাসিক এলাকাগুলোতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আল–আশরাফিয়েহ ও বনি জায়েদ এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছে। এ যুদ্ধবিরতি রাত তিনটা থেকে কার্যকর হবে।’

কুর্দি যোদ্ধাদের আজ সকাল ৯টা নাগাদ ওই সব এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া বেসামরিক নাগরিকেরা যেন নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এ যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য।

আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আলগারিব সরকারি সংবাদ সংস্থা সানাকে বলেছেন, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন।

যুদ্ধবিরতি বিষয়ে সরকারের ঘোষণার পর কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনী আলেপ্পোতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। সেখানে কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এসডিএফ সিরিয়ার তেলসম্পদে সমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর–পূর্ব অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর কাছ থেকে এলাকা পুনর্দখল করার ক্ষেত্রে এ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এদিকে কুর্দিদের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে সিরীয় সরকারের সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি কার্যকর করা বন্ধ বা স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ শুরুর দায় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে।

সিরিয়ায় ইসলামপন্থী নেতা আল–শারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে আলেপ্পোতে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা এটি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দামেস্কের মিত্র তুরস্ক এবং ইসরায়েলের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। কুর্দিদের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।