
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইজিআরসি) ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এসব ঘটনায় ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যেকোনো হামলার জবাবে তারা সরাসরি মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাবে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অনেক ‘দুর্বলতা’ আছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অসংখ্য মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক আলী হাশেম জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, যাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো নিয়ে সমস্যা রয়ে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন ইরান যেন পুরোপুরি পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে। সেই সঙ্গে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা কমিয়ে ফেলে।
এসব বিষয় ইরানের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা, যা তারা কোনোভাবেই মানতে রাজি নয়।
ফলে দুই পক্ষ আলোচনার কথা বললেও তাদের শর্তের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে কোনো সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা খুব কম দেখা যাচ্ছে।
ওই অঞ্চলের ভয়াবহ সংকট এড়াতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আবার পরমাণু আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ফোনে কথা বলেছেন। তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেন।