
সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে আল–জাজিরা তাৎক্ষণিকভাবে এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ার দক্ষিণে ইরাক ও জর্ডান সীমান্তে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এ ঘাঁটি একসময় আইএসআইএল (আইএস)–বিরোধী অভিযানের প্রধান কেন্দ্র ছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত জানুয়ারি থেকেই সিরিয়া থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছিল। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছাকাছি এলাকায়) নৌ ও বিমানশক্তি বৃদ্ধির যে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তার সঙ্গে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) নৌ ও বিমানশক্তি বৃদ্ধির যে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তার সঙ্গে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা আশার আলো না দেখায় মূলত খেপেছেন ট্রাম্প।
এসব হুমকির অংশ হিসেবে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড নামের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ার নিরাপত্তাকাঠামো পুনর্গঠন এবং বছরের পর বছর ধরে চলা বিভক্তি কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তির পর সেনা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ চুক্তির আওতায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে। এসডিএফ আইএসবিরোধী লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের প্রধান সহযোগী ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে সিরিয়ার জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারি বাহিনী সম্প্রতি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; যা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি দুই বাহিনীকে একীভূত করার পথ তৈরি করে।