মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা চাই: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যদি ইরানে প্রবেশ করে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, তবে তা ‘চমৎকার’ হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির নাম উঠে আসে। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, মোজতবা খামেনির নেতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ট্রাম্প টেলিফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইরানের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরই সেই ব্যক্তিকে (পরবর্তী নেতা) বেছে নিতে হবে। আমরাই সেই ব্যক্তিকে নির্বাচন করব।’

গত শনিবার ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এর ছয় দিন পর গতকাল ট্রাম্প সরাসরি কুর্দি বাহিনীকে ইরানে হামলার উসকানি দেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ইরানি এবং কিছু মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

গত শনিবার ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এর ছয় দিন পর গতকাল ট্রাম্প সরাসরি কুর্দি বাহিনীকে ইরানে হামলার উসকানি দেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ইরানি এবং কিছু মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কুর্দি যোদ্ধাদের আক্রমণাত্মক মনোভাবের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে চায়, সেটি আমার কাছে দারুণ মনে হয়। আমি পুরোপুরি এর পক্ষে থাকব।’

ইরানের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টানেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রদ্রিগেজ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি চমৎকার কাজ করেছেন।’

ট্রাম্প বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইরানকে নেতৃত্ব দেবেন এমন একজনকে বাছাই করার প্রক্রিয়ায় আমরা যুক্ত থাকতে চাই। যাতে আমাদের প্রতি পাঁচ বছর পরে ফিরে এসে বারবার একই কাজ (যুদ্ধ) করতে না হয়। আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি দেশটির মানুষের জন্য এবং দেশের জন্য ভালো কাজ করবেন।’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি কেন তাঁর পছন্দের তালিকায় নেই, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি। প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সবাই এই বিবেচনায় আছেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।’

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ করে দেওয়া ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইরানি বাহিনীর হামলায় ছয়টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

কুর্দি হস্তক্ষেপের পক্ষে ট্রাম্প

পশ্চিম ইরানে অভিযান চালাতে ইচ্ছুক কুর্দি বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে সুরক্ষা দেবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, ‘আমি সেটি আপনাদের বলতে পারছি না।’ তবে কুর্দিদের মূল লক্ষ্য হতে হবে ‘জয়’।

সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কীভাবে হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তখন ইরানের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার আশায় সীমান্ত এলাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কুর্দি জোট।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ করে দেওয়া ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইরানি বাহিনীর হামলায় ছয়টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলাই থাকবে। তিনি বলেন, ‘ওদের (ইরান) কোনো নৌবাহিনী নেই। আপনারা তো জানেনই, ওদের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে। আমি হরমুজ প্রণালির ওপর কড়া নজর রাখছি।’

গতকাল যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পারস্য উপসাগরে আরও বেশ কিছু তেলের ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি ইরানি ড্রোন প্রতিবেশী আজারবাইজানেও ঢুকে পড়েছে, যা অন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্যও বিপদের সংকেত দিচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

তবে তেলের দাম বাড়া নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলে দাম খুব দ্রুতই কমে যাবে। আর যদি দাম কিছুটা বাড়েও, তাতে কিছু যায় আসে না। সামান্য দাম বাড়ার চেয়ে এই যুদ্ধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

এই সংঘাত কত দিন চলবে, সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস না দিলেও ট্রাম্প দাবি করেন, সবকিছু খুব দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলব, সবকিছু আমাদের পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে এবং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জোরদারভাবে এগোচ্ছে।’