
ইসরায়েলের লাগাতার বোমা হামলা আর বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দের ভেতরে আতঙ্কিত শিশুসহ গাজার বাসিন্দাদের মানসিকভাবে টিকে থাকার শক্তি জোগানোর অনন্য এক উপায় বের করেছেন গাজার একজন সংগীতশিক্ষক।
গাজা উপত্যকার আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের নিরবচ্ছিন্ন ভনভন শব্দ শুরু হয়েছে বহু আগেই। ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের পর থেকে যুক্ত হয়েছে গুলির শব্দ আর বোমা বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজ।
আল–জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খলিলি গাজা সিটি থেকে জানাচ্ছেন, এ উপত্যকায় যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। চারদিকে বিধ্বস্ত বাড়িঘর, বিশৃঙ্খলা আর খাদ্য বিতরণের জায়গায় গুলি থেকে (ইসরায়েলি সেনাদের) বাঁচতে মরিয়া হয়ে ছুটছে মানুষ।
আল–খলিলি জানান, এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যে সারাক্ষণ বাজতে থাকে ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দ। কথা বলতে বলতেই তিনি (আল–খলিলি) ওপরে উড়ে যাওয়া ড্রোনের শব্দ শুনে থেমে যান।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা হওয়ার আগেও অনেক বছর ধরে গাজার ওপর দিয়ে ড্রোন উড়েছে।
গাজা সিটির অনেক ফিলিস্তিনি এসব ড্রোনের শব্দ একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। আল-খলিলি বলেন, এটা শুধু নজরদারি নয়, (ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া) মানসিক যুদ্ধও। শব্দের মাধ্যমে মানুষের মনোবল ও শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা।
গাজা সিটির অনেক ফিলিস্তিনি এসব ড্রোনের শব্দ একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। আল-খলিলি বলেন, ‘এটা শুধু নজরদারি নয়, (ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া) মানসিক যুদ্ধও। শব্দের মাধ্যমে মানুষের মনোবল ও শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা।’
গাজায় যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। চারদিকে বিধ্বস্ত বাড়িঘর, বিশৃঙ্খলা আর খাদ্য বিতরণের জায়গায় গুলি থেকে (ইসরায়েলি সেনাদের) বাঁচতে মরিয়া হয়ে ছুটছে মানুষ।—ইব্রাহিম আল-খলিলি, গাজায় আল–জাজিরার প্রতিবেদক
ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধ শুরু করার আগেই গাজার শিশুদের ওপর দেশটির কর্মকাণ্ডের প্রভাব দেখা গেছে। ২০২২ সালে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ উপত্যকার প্রতি পাঁচটি শিশুর চারজনই কঠোর ইসরায়েলি অবরোধের প্রভাবে হতাশা, কষ্ট আর ভয়-আতঙ্কে ভুগছে।
তবে সংগীতের শিক্ষক আহমেদ আবু আমশা খুঁজে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। তিনি শিশুদের শেখাচ্ছেন, কীভাবে আকাশে ড্রোনের তোলা ভনভন শব্দে আতঙ্ক নয়, বরং একে গানের সুর হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধ শুরু করার আগেই গাজার শিশুদের ওপর দেশটির কর্মকাণ্ডের প্রভাব দেখা গেছে। ২০২২ সালে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ উপত্যকার প্রতি পাঁচটি শিশুর চারজনই কঠোর ইসরায়েলি অবরোধের প্রভাবে হতাশা, কষ্ট আর ভয়-আতঙ্কে ভুগছে।
আমশা বলেন, ‘ধারণাটা এসেছে এখানকার বাস্তবতা থেকে, আমাদের কষ্ট থেকে। ড্রোন উড়তে শুরু করলেই বাচ্চারা আমাকে বলে, “স্যার, এই বিরক্তিকর শব্দে আমরা ক্লান্ত।” তখন আমি বলি, না, আমাদের এই শব্দের সঙ্গে গান গাইতে হবে।’
এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমাদের খারাপ কিছুকে ভালো কিছুতে রূপ দিতে হবে। তাই আমরা গান করি।’ প্রায়ই তাঁরা নিজেদের গান গাওয়ার ভিডিও বানিয়ে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন।
‘এই ভিডিওগুলোর উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধের শব্দকে সংগীতে বদলে দেওয়া, আর সেটাকে সুন্দর কিছুতে রূপান্তর করা।’ বলেন আবু আমশা।
আমশার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওগুলো হাজারো মানুষ দেখেছেন। আল-খলিলি বলেন, এগুলো শিল্প সৃষ্টির জন্য নয়, বরং এ বার্তা দেওয়ার জন্য যে—‘একটা যন্ত্র (ইসরায়েলের ড্রোন), যা নজরদারি ও ভয় দেখাতে তৈরি, সেটা আমাদের বেঁচে থাকার অর্থ নির্ধারণ করবে না।’ এটাই একধরনের প্রতিরোধ।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৬৩ হাজার ৩৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার।