‘এ দেশের তরুণদের যাঁরা মাটি ও রক্তে টেনে নামিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের ঘৃণা ও ক্ষোভ’—এমন ঘোষণা দেওয়ার পর আজার মানসুরিকে গ্রেপ্তার করা হয়
‘এ দেশের তরুণদের যাঁরা মাটি ও রক্তে টেনে নামিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের ঘৃণা ও ক্ষোভ’—এমন ঘোষণা দেওয়ার পর আজার মানসুরিকে গ্রেপ্তার করা হয়

ইরানে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ শীর্ষ সংস্কারপন্থী নেতারা গ্রেপ্তার

ইরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নির্বাচিত হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জোট ‘রিফরমিস্ট ফ্রন্ট’-এর প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

সম্প্রতি ইরানের সড়কগুলোয় সংঘটিত বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন এই গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আজার মনসুরি ‘ইসলামিক ইরান পিপলস পার্টি’র সাধারণ সম্পাদক। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের বিপর্যয় কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না। তবে তিনি জনসমক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করেননি।

সরকারের বাইরে থাকা সংস্কারপন্থী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করার অংশ হিসেবে রিফরমিস্ট ফ্রন্টের রাজনৈতিক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আসগরজাদেহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মহসেন আমিনজাদেহকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিফরমিস্ট ফ্রন্টের রাজনৈতিক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আসগরজাদেহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মহসেন আমিনজাদেহকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সোমবার গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের এ তালিকায় আরও যুক্ত হয়েছেন হোসেন কাররুবি। তিনি সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেহেদি কাররুবির ছেলে। মেহেদি দীর্ঘদিন গৃহবন্দী ছিলেন। মেহেদি বলেছিলেন, ইরানের বর্তমান দুর্দশা ‘খামেনির ধ্বংসাত্মক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফল।’ তবে আইআরজিসির অভিযোগ, তাঁর ছেলে এ ‘অস্থিতিশীল বিবৃতি’র প্ররোচনাদাতা ও প্রকাশক।

২৭টি সংস্কারপন্থী দলের মোর্চা ‘রিফরমিস্ট ফ্রন্ট’-এর অন্তত আরও দুই বিশিষ্ট নেতাকে গতকাল মঙ্গলবার এভিন কারাগারের প্রসিকিউটর অফিসে হাজির হতে বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষোভ দমনের পদ্ধতির বিরুদ্ধে সমালোচনা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে একটি সড়ক অবরোধের দৃশ্য। ইরানের রাজধানী তেহরানে, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৩ হাজার হলেও অন্যান্য সূত্রের দাবি এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

পরিচিত শান্তিবাদী ও অহিংস শক্তি, যারা আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে রাজনীতি করে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে এই নিরাপত্তা অভিযান অত্যন্ত আপত্তিকর।

এদিকে মনসুরির মুক্তির দাবি জানিয়ে ‘ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি’  পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘পরিচিত শান্তিবাদী ও অহিংস শক্তি যারা আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে রাজনীতি করে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে এই নিরাপত্তা অভিযান অত্যন্ত আপত্তিকর; বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন দেশ বিদেশি হুমকি ও গুরুতর অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।’

তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস বলেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসীদের পদাতিক বাহিনীর’ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন এবং তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করছিলেন।

তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস বলেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসীদের পদাতিক বাহিনীর’ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন এবং তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করা, সংবিধানের বিরোধিতা, আত্মসমর্পণের প্রচারণা চালানো এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিপথগামী করে গোপন নাশকতামূলক ব্যবস্থা তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।