আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে সাম্প্রতিক এক রোববার একটি প্লাজা যেন অস্থায়ী জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল। সেখানে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ আরও নানা প্রাণী এদিক–ওদিক ঘোরাঘুরি করছিল। কেউ গাছে চড়ছিল, কেউ মাঠের সবুজ ঘাসের ওপর লাফাচ্ছিল। সেখানে থাকা লোকজন তাদের কাণ্ডকারখানা অবাক চোখে দেখছিল।
এসব কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল—কেউই আসল পশু নয়। একদল কিশোর–কিশোরী সেদিন এসব প্রাণীর মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তাদের একজন সোফিয়া। সে বিগলের (একধরনের শিকারি কুকুর) মুখোশ পরে চার হাত–পায়ে সবুজ মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছিল।
কাছেই ছিল ১৫ বছর বয়সী আগুরা। সে বেলজিয়ান কুকুরের মুখোশ পরে ছিল। এই কুকুর যেভাবে বাতাসে লাফিয়ে ওঠে, যেভাবে বাধা অতিক্রম করে, সেও ঠিক নিখুঁত অনুকরণে সেভাবে লাফালাফি, দৌড়ঝাঁপ করছিল। অন্যদের কেউ কেউ বিড়াল বা শিয়াল সেজে এসেছিল। কয়েকজন গাছের ডালে বসে ছিল। কৌতূহলী লোকজনের থেকে দূরে তারা গাছে চড়ে ছিল।
এরা সবাই ‘থেরিয়ান’। এটি ছিল থেরিয়ানদের সর্ববৃহৎ জমায়েত। ‘থেরিয়ান’ বলতে সেই ধরনের মানুষদের বোঝায়, যারা মানসিক, আধ্যাত্মিক বা মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানুষ নয়, এমন প্রাণী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আর্জেন্টিনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে টিকটকে। কিশোর–কিশোরীদের এমন আচরণ মা–বাবার জন্য উদ্বেগের কারণ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বুয়েনস এইরেসের মনোবিজ্ঞানী দেবোরা পেদাসে বলেন, মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একধরনের প্রতীকী প্রাণী পরিচয়। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কেউ গভীরভাবে এই পরিচয়কে গ্রহণ করে এবং সম্পূর্ণভাবে প্রাণীর ভূমিকা নেয়, যা আত্মহানির বা অন্যের ক্ষতি করার ঝুঁকি বাড়ায়।