ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাঁদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ঘটনার পর মাদুরো ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে আগ্রহ বেড়েছে অনেকের মধ্যে।
মাদুরোর বর্তমান স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাঁকে বিয়ে করেন মাদুরো। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তাঁর এক ছেলে রয়েছে। তাঁর নাম নিকোলা মাদুরো (জুনিয়র) গুয়েরা (৩৫)।
নিকোলা মাদুরো (জুনিয়র) গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক চোরাচালানসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য। তিনি ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদুরো গুয়েরার জন্ম ১৯৯০ সালে। তাঁর মায়ের নাম আদ্রিয়ানা গুয়েরা আঙ্গুলো। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় মাদুরোর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়।
মাদুরো গুয়েরাই ভেনেজুয়েলায় ‘চাভিসমো’ আন্দোলনের ঝান্ডা বয়ে নেবেন বলে অনেকে মনে করেন। ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ছিলেন সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত। এই মতবাদকে এগিয়ে নিতে তিনি ভেনেজুয়েলায় চাভিসমো আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মামলার নথি অনুযায়ী, নিকোলা মাদুরো ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একমাত্র ছেলে নিকোলা মাদুরো গুয়েরাকে ‘প্রেসিডেন্সির স্পেশাল ইন্সপেক্টর কোরের’ প্রধান নিয়োগ করেন।
চার বছর পর মাদুরো গুয়েরা ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। এটি ছিল মূলত একটি নির্বাচিত অস্থায়ী সংসদ, যার দায়িত্ব ছিল সংবিধান পুনর্লিখন করা। এরপর ২০২১ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (পার্লামেন্ট) সদস্য নির্বাচিত হন মাদুরো গুয়েরা। তিনি এখনো এ পদে আছেন।
মাদুরো গুয়েরা ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্মড ফোর্সেসে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল সিস্টেম অব ইয়ুথ অ্যান্ড চিলড্রেনস অর্কেস্ট্রায় বাঁশি বাজানো শিখেছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে মাদুরো গুয়েরা বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম গ্রিসেল। এই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান আছে বলে ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম এল এস্টিমুলোর জানিয়েছে।
২০১৯ সালে মাদুরো গুয়েরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন। নিকোলা মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মাদুরোর ছেলে প্রোপাগান্ডা ও সেন্সরশিপে জড়িত। তিনি ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে লাভ করেছেন। দেশটিতে মানবিক সহায়তা ঢুকতে না দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সহায়তা করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, শক্ত হাতে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভেনেজুয়েলার জনগণকে দমন করতে নিকোলা মাদুরো তাঁর ছেলেসহ অন্যান্য সহযোগীর ওপর নির্ভর করতেন।