মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থপ্রবাহ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত রোববার কিউবার রাজধানী হাভানার একটি দৃশ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থপ্রবাহ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত রোববার কিউবার রাজধানী হাভানার একটি দৃশ্য

ভেনেজুয়েলা থেকে আর তেল ও অর্থ পাবে না কিউবা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

দীর্ঘদিনের শত্রু কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটিতে আর কোনো জ্বালানি তেল বা অর্থ যাবে না। তিনি বড় ধরনের সংকট এড়াতে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে নতি স্বীকার না করে কঠোর জবাব দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কিউবাকে কড়া বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ‘কিউবায় আর কোনো তেল বা টাকা যাবে না—একদমই না। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমি তাদের একটি চুক্তিতে আসার পরামর্শ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল। এর বিনিময়ে দেশটি ভেনেজুয়েলার ‘স্বৈরশাসকদের’ নিরাপত্তা দিয়ে আসছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে দেশটিতে কিউবার তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘কিউবা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা কী করব না করব, তা কেউ বলে দিতে পারে না। ৬৬ বছর ধরে কিউবা মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিউবা কাউকে হুমকি দেয় না, তবে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়তে প্রস্তুত।’

একই সুরে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজও। তিনি বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির অধিকার কিউবার আছে এবং কোনো সামরিক চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না।

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হওয়ায় কিউবায় বর্তমানে ভয়াবহ জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী হাভানাসহ পুরো দেশ দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছে। খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে গত কয়েক বছরে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন।

হাভানার বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী মারিয়া এলেনা সাবিনা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, কিছুই নেই। জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন দ্রুত একটা পরিবর্তন দরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবাকে কোণঠাসা করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারানোয় কিউবা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলছে, কিউবার অর্থনীতি চরম চাপের মধ্যে থাকলেও দেশটির সরকার এখনই ভেঙে পড়বে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে মেক্সিকো কিউবাকে সামান্য তেল সরবরাহ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ কিউবাকে এক নজিরবিহীন মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।