অন্ধ তীরন্দাজের তিরে বিদ্ধ দেশের ভবিষ্যৎ

আবরার
আবরার

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে নৃশংসতা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু তরুণ বললে ভুল হবে, মূলত ক্ষমতাসীন অংশের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য সব সময় তাদের জোর প্রতিপক্ষেরও প্রয়োজন পড়ছে না। অবশ্য সে অর্থে দেশে তো ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ নেইও। প্রতিপক্ষ না পেলে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী তরুণেরা নিজেদের পারফরমেন্স দেখাবে কী করে? তারা তো এখন অন্ধ তীরন্দাজে পরিণত হচ্ছে। দেশে বিরোধী দল এখন বিরল এক প্রজাতি। ক্ষুধায় উন্মত্ত বাঘ যেমন নিজের বাচ্চা খায়, পদ ও টেন্ডার-লোভীরা তেমনি স্বজাতি-স্বগোত্র বাছবিচার না করেই সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

১৮-২০ জন হিংসায় উন্মত্ত যুবক মিলে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, মশারি টানানোর রড দিয়ে হাঁটু, পা, পায়ের তালু, বাহুসহ দেহের প্রতিটি অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এলোপাতাড়ি পেটালে পৃথিবীর কট্টরতম আওয়ামী সমর্থককেও স্বীকার করানো যাবে যে, সে একজন শিবিরকর্মী। এ এক ভয়ংকর খেলা!

>সহিংসতা, মাদক ও দুর্নীতির লেজুড়বৃত্তি যেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যানসারের মতো গ্রাস করছে, তা দেশকে কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের

অত্যন্ত পরিতাপ ও পরিহাসের বিষয়, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা বাংলাদেশে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের এক অন্তহীন চক্রে নিমজ্জিত রয়েছি। এখন সম্ভবত খাদের কিনারে এসেই উপনীত হয়েছি আমরা। মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ঘটনা আবারও আমাদের সে বার্তাই দিল। আবরার ফাহাদ প্রাণ দিয়ে ১৮-২০ জনকে চিহ্নিত করে গেছে, প্রকৌশলী হলে যারা দেশের জন্য আরও বড় হুমকিতে পরিণত হতো হয়তো।

মেধাবী, দক্ষ ও কর্মক্ষম জনসম্পদ পরিবারের, সমাজের ও দেশের চালিকাশক্তি। দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের দিকেই দেশ তাকিয়ে থাকে। কিন্তু সহিংসতা, মাদক ও দুর্নীতির লেজুড়বৃত্তি যেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যানসারের মতো গ্রাস করছে, তা দেশকে কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের।

এ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার দিকে জোর দিতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। রাজনৈতিক দেশপ্রেম বাদ দিয়ে জাতিগত দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভক্ত না হয়ে নিজেকে নিয়ে, দেশকে নিয়ে, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করে। সবচেয়ে বড় কথা তাদের বিশ্বনাগরিকে পরিণত হতে হবে।