কানাডায় অতিসংক্রামক একটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হরিণ। দেশটির আলবার্টা ও সাসকাচুয়ান প্রদেশে রোগটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, রোগটি হরিণ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। খবর এনডিটিভির
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোগটির নাম ক্রনিক ওয়াস্টিং ডিজিজ (সিডব্লিউডি)। এটি বেশ কয়েক প্রজাতির হরিণকে আক্রান্ত করতে পারে। সিডব্লিউডি পশুপাখির জন্য মারাত্মক। এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো টিকা বা চিকিত্সা আবিষ্কৃত হয়নি।
সিডব্লিউডি গত শতকের ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর তা যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো, ওকলাহোমা, কানসাস, নেব্রাস্কা, মিনেসোটা, উইসকনসিন, সাউথ ডাকোটা ও মন্টানা অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। কানাডায় ১৯৯৬ সালে প্রথম একটি হরিণের খামারে সিডব্লিউডি শনাক্ত হয়। পরে তা বন্য হরিণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সিডিসি বলছে, সিডব্লিউডি মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আক্রান্ত হরিণের মাংস থেকে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, যে প্রোটিনের মাধ্যমে সিডব্লিউডি ছড়ায়, তা মাংস রান্না করার পরও অক্ষত থাকে।
তবে এখন পর্যন্ত মানুষের শরীরে সিডব্লিউডি ছড়ানোর কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে সিডিসি। আর মানুষকে সিডব্লিউডি আক্রান্ত করতে পারে কি না, তা–ও জানা যায়নি। এরপরও কোনো হরিণ রোগাক্রান্ত মনে হলে, সেটিকে শিকার করা, মাংস হাতে নেওয়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিডব্লিউডিতে আক্রান্ত পশুপাখি নিজের মস্তিষ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কানাডিয়ান ফুড ইন্সপেকশন এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব পশুপাখির মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লালা ঝরা, অস্বাভাবিক আচরণ, অত্যধিক প্রস্রাব ও ওজন হ্রাসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।