
সব সময় মানবতা নিয়ে সরব যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব মানবতা রক্ষায় প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করছে তারা। অথচ নিজের দেশেই হচ্ছে ব্যাপক মানবতার লঙ্ঘন। মারাত্মক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধরা পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় বন্দিশিবির অ্যাডেলান্টোতে। সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বন্দীরা।
সম্প্রতি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ এক চিত্র দেখতে পায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে।
অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, জোর করে স্বজনদের আলাদা করে রাখা, এমনকি কক্ষে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে তৈরি ফাঁস চোখে পড়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের পরিদর্শকদের।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই অ্যাডেলান্টো বন্দিশিবির লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এই শিবিরে প্রায় ১ হাজার ৯৪০ জন পূর্ণবয়স্ক নারী ও পুরুষ অভিবাসী রয়েছেন। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে জিও গ্রুপ। এটি সরকার পরিচালিত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মূলত, বেসরকারি কারাগার ও বন্দিশিবির পরিচালনা করে এরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই পরিদর্শন করে। ভয়াবহ যেসব বিষয় দেখা গেছে, তা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আইনকে লঙ্ঘন করে। এই বন্ধিশিবিরে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাঝুঁকি মারাত্মকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
পরিদর্শকেরা ১৫ থেকে ২০টি কক্ষে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস বানানো দেখতে পান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ৩২ বছরের এক যুবক এ রকমই একটি ফাঁস তৈরি করে আত্মহত্যা করেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সাতজন বিভিন্নভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। আত্মহত্যার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে হয়তো অনেকে সফল হন না। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর এমন বন্দীদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে ফেলা হয়। এক বন্ধী জানান, অনেক সময় আত্মহত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ বন্দীদের নিয়ে হাসাহাসি করেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডেলান্টো সেন্টারে এসব বিষয় মোকাবিলার আইসিইর অবহেলার মনোভাব বন্দীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ওই প্রতিবেদনে শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক কারণে বন্দীদের আলাদা করার বিষয়টি যে ভুল, তা উল্লেখ করা হয়। একটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী বন্দীকে নয় দিনের জন্য শাস্তিমূলকভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। এই পুরোটা সময় তিনি হুইলচেয়ারে ছিলেন। বিছানায় ঘুমাতে, এমনকি দাঁত মাজায় সহায়তা করারও কেউ ছিল না। টানা নয় দিন হুইলচেয়ারে মানবেতর জীবন কাটান তিনি। দেখা যায়, অনেক বন্দীকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো বন্দীকে শিকল পরিয়ে রাখতেও দেখা গেছে, যা আইসিই আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও দাঁতের সেবা একেবারেই অপর্যাপ্ত এসব শিবিরে। বন্দীদের অনেকেরই কোনো রোগের সেবা নিতে হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ভুল চিকিৎসার শিকারও হন তাঁরা। এক বন্দী জানান, চিকিৎসক তাঁর ভুল দাঁত তুলে ফেলেছেন।
এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল আইসিইএর একটি চিঠি।এতে বলা হয়, ১৮ অক্টোবর থেকে তারা অ্যাডেলান্টো সাইট পরিদর্শন করবে।