মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে কাভানার নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে

ব্রেট কাভানা। ছবি: রয়টার্স
ব্রেট কাভানা। ছবি: রয়টার্স

ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শেষে এফবিআই যে প্রতিবেদন পেশ করেছে, এতে বিতর্কিত এই বিচারকের সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ যে নিকটতর হবে—এ ব্যাপারে রিপাবলিকান নেতৃত্ব একমত। তাঁরা দাবি করেছেন, এই সবিস্তার তদন্তে কাভানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান সিনেটর চাক গ্রাসলি জানিয়েছেন, শুক্রবার ওয়াশিংটন সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কাভানার নিয়োগ প্রশ্নে প্রথম ভোট গৃহীত হবে।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই তদন্তকে প্রহসন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর ডায়ান ফাইনস্টাইন বলেছেন, তাঁরা যেসব সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য নাম দিয়েছিলেন, তাঁদের কারোর সঙ্গেই এফবিআই কথা বলেনি। এমনকি কাভানা ও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকারী অধ্যাপক ক্রিস্টিন ব্লাসি ফোর্ডের সঙ্গেও কথা বলেনি এফবিআই।

ডেমোক্র্যাটদের তরফ থেকে ২৮ জন সাক্ষীর নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউসের নির্দেশে এফবিআই মাত্র নয়জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।

ডেমোক্র্যাটদের সব প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে রিপাবলিকান নেতৃত্ব কাভানার নিয়োগ আর ঝুলিয়ে রাখতে প্রস্তুত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ব্যাপারে তাঁদের ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার বিচার বিভাগীয় কমিটির পদ্ধতিগত ভোটের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মূল সিনেটে সব সদস্যের ভোটের জন্য কাভানার নাম প্রস্তাব করা হবে। সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল জানিয়েছেন, শনিবার এই প্রশ্নে ভোট নেওয়া হবে।

হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকান নেতারা যত আস্থার সঙ্গে ভোট গ্রহণের কথা বলেছেন, বাস্তব অবস্থা তাঁদের জন্য এখনো ততটা স্বস্তিকর নয়। এই মুহূর্তে সিনেট ৫১-৪৯ সদস্যে বিভক্ত। রিপাবলিকান দলের তিনজন সিনেটর—সুসান কলিন্স, লিসা মুরকাউস্কি ও জেফ ফ্লেক এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কীভাবে ভোট দেবেন, সে কথা জানাননি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৪৮ জন্য কাভানার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প-সমর্থক হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট সিনেটর জো মানশিন যাতে কাভানার পক্ষে ভোট দেন, সে জন্য তাঁর ওপর চাপ রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁকে পুনর্নির্বাচনের জন্য দাঁড়াতে হবে। মাত্র দুই দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মানশিনের বিরুদ্ধে প্রচারের অংশ হিসেবে সভা করে গেছেন। মিচ ম্যাককনেল আশা করছেন, মানশিনকে তিনি কাভানার পক্ষে টানতে সক্ষম হবেন।

এফবিআইয়ের তদন্ত রিপাবলিকানদের আশ্বস্ত করলেও কাভানার নিয়োগের ব্যাপারে দেশজুড়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। যৌন হয়রানির প্রশ্নটি আপাতত চাপা পড়ে গেলেও বিচারক হিসেবে তাঁর নিরপেক্ষতা ও আবেগশূন্য বিচারক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অধ্যাপক এক যৌথপত্রে কাভানার নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আজীবন সদস্য হিসেবে যে মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন, কাভানার তা নেই।

প্রায় একই কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি পল স্টিভেন্স। যৌন হয়রানির অভিযোগের জবাবে কাভানা যে ভাষায় ও ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করেছেন, তা মোটেই দেশের শীর্ষ আদালতের জন্য সম্মানজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই আদালতের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা কাভানা হারিয়েছেন বলে ফ্লোরিডার বোকা র‍্যাটনে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের এক সমাবেশে স্টিভেন্স মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবাদের মাত্রা কাভানাকে এতটাই বিচলিত করেছে যে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি এক উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। এতে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর চরিত্রের ওপর অভাবিত আক্রমণের মুখে সিনেট শুনানিতে তিনি বড় বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আশ্বাস দেন, বিচারক হিসেবে তিনি পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন।