
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তিনি ‘নিখুঁত’ স্বাস্থ্যের অধিকারী। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন; যা তাঁর বয়স নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।
ট্রাম্প জানান, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন গ্রহণ ও হাতের কালশিটে দাগ ঢাকতে মেকআপ ব্যবহার করেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করাকে ‘বিরক্তিকর’ মনে হওয়ায় তা এড়িয়ে চলেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে গত অক্টোবরে তাঁর আসলে ‘সিটি স্ক্যান’ করা হয়েছিল। অথচ এর আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে বলেছিলেন, তাঁর বিস্তৃত পরিসরে ‘এমআরআই’ স্ক্যান করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে (৭৯ বছর) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া ট্রাম্পের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সভায় তাঁকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায় এবং অনেক সময় তিনি অন্যদের প্রশ্ন শুনতে পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে (৭৯ বছর) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া ট্রাম্পের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সভায় তাঁকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায় এবং অনেক সময় তিনি অন্যদের প্রশ্ন শুনতে পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া আলোচনা–বিতর্কে ট্রাম্প ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করেছেন। পত্রিকাটিতে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ একটি টেলিফোন কলে ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ২৫তম বারের মতো স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলি। আমার স্বাস্থ্য একদম নিখুঁত।’
ট্রাম্প জানান, ২৫ বছর ধরে তিনি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ অ্যাসপিরিন সেবন করছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এর ফলে তাঁর শরীরে দ্রুত কালশিটে দাগ পড়ছে।
চলুন ২৫তম বারের মতো স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলি। আমার স্বাস্থ্য একদম নিখুঁত।—ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প বলেন, ‘লোকে বলে অ্যাসপিরিন রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। আমি চাই না, আমার হৃৎপিণ্ড দিয়ে ঘন রক্ত প্রবাহিত হোক।’
চিকিৎসকেরা সাধারণত ৮১ মিলিগ্রামের পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন নেন। দীর্ঘদিনের এই রুটিন তিনি বদলাতে চান না জানিয়ে বলেন, ‘আমি কিছুটা কুসংস্কারে বিশ্বাসী।’
এর আগে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে করানো পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, সেটি এমআরআই স্ক্যান ছিল। কিন্তু এবার তিনি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, ‘সেটি এমআরআই ছিল না। ছিল সাধারণ একটি স্ক্যান।’
চিকিৎসকেরা সাধারণত ৮১ মিলিগ্রামের পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন নেন। দীর্ঘদিনের এই রুটিন তিনি বদলাতে চান না জানিয়ে বলেন, ‘আমি কিছুটা কুসংস্কারে বিশ্বাসী।’
ট্রাম্পের চিকিৎসক নেভি ক্যাপ্টেন শন বারবায়েলা এক বিবৃতিতে জানান, হৃদ্যন্ত্রের কোনো সমস্যা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই ওই সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল এবং তাতে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি।
আমার কাছে এমন মেকআপ আছে; যা লাগানো খুব সহজ, মাত্র ১০ সেকেন্ড লাগে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাধারণ সমস্যা ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’র কারণে ট্রাম্পকে কমপ্রেশন মোজা (একধরনের বিশেষ মোজা) পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এগুলো আমার পছন্দ নয়।’ পা ফুলে যাওয়া রোধে এখন তিনি নিয়মিত ডেস্ক থেকে উঠে হাঁটাচলা করেন বলে জানান।
এদিকে শরীরচর্চার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, গলফ খেলা ছাড়া অন্য কোনো ব্যায়াম তাঁর পছন্দের নয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এটা পছন্দ করি না, এটা বিরক্তিকর। কিছু লোকের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো আমার জন্য নয়।’
প্রকাশ্যে সভায় ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, চোখ বন্ধ রাখাটা তাঁর কাছে ‘আরামদায়ক’ মনে হয়। আর হাতে পড়া কালশিটে দাগ ঢাকতে তিনি মেকআপ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এমন মেকআপ আছে; যা লাগানো খুব সহজ, মাত্র ১০ সেকেন্ড লাগে।’
শ্রবণশক্তির সমস্যার কথাও অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ছবি তোলার সময় তাঁকে ঘুমন্ত দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধে৵ চোখের পলক ফেলার সময় আলোকচিত্রীরা ছবি তোলেন এবং সেই মুহূর্তটিই তাঁরা ধরে ফেলেন।’
আবার ট্রাম্পের চিকিৎসক তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ‘অসাধারণ’ স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত।