যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারির ‘বিরুদ্ধে’ ট্রাম্প: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারি সম্প্রসারণের নতুন পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের এই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম তীর স্থিতিশীল থাকলে ইসরায়েলও নিরাপদ থাকে। এটা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে।

ইসরায়েলের কট্টর দক্ষিণপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত রোববার নতুন বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হবে।

এসব পদক্ষেপের ফলে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি গড়তে ইসরায়েলিদের জন্য জমি পাওয়া আগের চেয়ে সহজ হবে। যদিও আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ বলে বিবেচিত।

ইসরায়েলের ওই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হলো, ইসরায়েলি পদক্ষেপে সম্মত নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইসরায়েলের ওই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হলো, ইসরায়েলি পদক্ষেপে সম্মত নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আট দেশ গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের এসব অবৈধ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনিভাবে দেশটির কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

আটটি দেশ হলো মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যৌথ বিবৃতিতে এসব দেশ বলেছে, ইসরায়েলের পদক্ষেপের লক্ষ্য—অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম আরও পাকাপোক্ত করা। পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া।

ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন আট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতারা ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য ও স্পেন।

ইসরায়েলি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টা আরও বেগবান করা এবং সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জনগণকে তাদের ভূমি থেকে উৎখাতের পথ তৈরি করা হচ্ছে বলেও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য ও স্পেন।

জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে এবং ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানের (ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট) সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন মহাসচিব।