
ফ্রান্সের একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত শিশু যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ চক্র নিয়ে ইউরোপের দেশটির তদন্তে প্রায় ১০ জন নতুন সন্দেহভাজন ভুক্তভোগীর নাম সামনে এসেছে।
আরটিএল ব্রডকাস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যারিসের পাবলিক প্রসিকিউটর লর বেক্যু গতকাল রোববার বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সামনে এসে কথা বলার আহ্বান জানানোর পর প্রায় ২০ জন সন্দেহভাজন ভুক্তভোগী নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন।
বেক্যু বলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিষয়ে তদন্তকারীরা আগে থেকেই জানতেন, তবে ‘নতুন ভুক্তভোগীরাও সামনে আসছেন, যাঁদের সম্পর্কে আমাদের আগে কোনো ধারণাই ছিল না’।
প্যারিসের পাবলিক প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১০। এ মুহূর্তে আমরা এসব ভুক্তভোগীর বক্তব্য শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশে রয়েছেন। তাই তাঁরা কখন প্যারিসে আসতে পারবেন, সে অনুযায়ী তদন্তকারীরা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রয়াত ধনকুবের এপস্টিনের মামলার তদন্ত ঘিরে নথিপত্র প্রকাশের পর ফ্রান্সও মানব পাচার-সংক্রান্ত একটি তদন্ত শুরু করেছে।
ফরাসি ম্যাজিস্ট্রেটরা ফ্রান্সে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধগুলো বা এপস্টিনের অপরাধে সহায়তা করেছেন—এমন ফরাসি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের চেষ্টা করছেন।
বেক্যু বলেন, ‘আমরা আবারও এপস্টিনের কম্পিউটার, তাঁর টেলিফোনের রেকর্ড এবং ঠিকানার খাতা সংগ্রহ করেছি।’
তাঁর দল ‘আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য অনুরোধ করবে’ বলেও জানান বেক্যু।
এপস্টিন ২০১৯ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মারা যান। যৌনকর্মের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। তাঁকে নিউইয়র্কের কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল। পরে কারাকক্ষ থেকে এপস্টিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সে বছরের সেপ্টেম্বরে ফরাসি তদন্তকারীরা প্যারিসে এপস্টিনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সন্দেহভাজন ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন কয়েকজন নারী রয়েছেন, যাঁদের তদন্তকারীরা আগে থেকেই চেনেন। তাঁরা ইউরোপীয় মডেল এজেন্সির সাবেক প্রধান জেরাল্ড মেরি এবং প্রয়াত মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্তের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন।
গত মার্চ মাসে ১৫ নারী ফ্রান্সকে জেরাল্ড মেরির বিরুদ্ধে এপস্টিনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালে জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন এবং এপস্টিনের জন্য এমন মেয়ে সরবরাহ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২২ সালে কারাগারে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।