
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তিনি ২০১২ সালে কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের দ্বীপে গিয়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি তাঁর আগের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। আগে তিনি দাবি করেছিলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার অনেক আগেই এপস্টিনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় লুটনিক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটি নৌকায় ভ্রমণকালে আমি তাঁর (এপস্টিন) সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। ওই সময় আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী ও চার সন্তান ছিল। আমরা ওই দ্বীপে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম— এটি সত্য। তবে সেটি ছিল মাত্র এক ঘণ্টার জন্য।’
লুটনিকের এই সফর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চিঠিপত্র বা ই–মেইল মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা লুটনিকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে গতকাল হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিকের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী এর আগে কংগ্রেসকে বলেছিলেন যে ২০০৫ সালেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। নিউইয়র্কে লুটনিকের প্রতিবেশী ছিলেন প্রয়াত এই ধনকুবেন। লুটনিকের দাবি ছিল, এপস্টিন তাঁর বাড়ির একটি কক্ষে শরীর মালিশের টেবিল রাখার কারণ হিসেবে ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। আর এরপরই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
তবে গতকাল দেওয়া সাক্ষ্যে লুটনিক বলেন, ‘আমার জানামতে, পরবর্তী ১৪ বছরে আমি আরও দুবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’
মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, লুটনিক ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এপস্টিনের দ্বীপে যান। এর চার বছর আগেই ২০০৮ সালে শিশুদের যৌনকর্মে বাধ্য করার দায়ে এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
ক্যাপিটল হিলের ওই শুনানিতেই লুটনিক প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এপস্টিনের দ্বীপে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেন। ওই মধ্যাহ্নভোজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক মনে করতে পারছি না, কেন আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, তবে আমরা গিয়েছিলাম।’
অবশ্য জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত কোনো অপকর্মে লুটনিকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়নি।
এপস্টিনের দ্বীপে যাওয়ার বাইরেও আরও একবার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়েছেন লুটনিক। তিনি বলেন, ওই সফরের প্রায় দেড় বছর পর এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর এক ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছিল।
লুটনিক দাবি করেন, মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টিনের লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথির মধ্যে মাত্র ১০টির মতো ই–মেইলে তাঁর নাম এসেছে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪ বছরে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার প্রায় কোনো লেনদেনই ছিল না।’
তবে লুটনিকের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ক্ষুব্ধ মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। শুনানিতে লুটনিককে রীতিমতো তুলোধুনো করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিকের এপস্টিনের দ্বীপে সফরের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় পক্ষের অনেক নেতা।
গত বছর বিচার বিভাগকে এপস্টিন-সংক্রান্ত জনসমক্ষে প্রকাশে বাধ্য করতে যে আইন করা হয়েছিল, তার দুই প্রধান রূপকার ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি। লুটনিকের এমন লুকোচুরিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা দুজনেই অবিলম্বে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। রো খান্না জানান, নথিপত্রে আরও কিছু নাম রয়েছে, যা আগে আড়াল করা হয়েছিল।