জোহরান মামদানি
জোহরান মামদানি

ভেনেজুয়েলায় হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন মামদানি

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি বলেছিলেন, লাতিন আমেরিকায় এ অভিযান নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর ‘সরাসরি প্রভাব ফেলবে’।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে ফোন করেছিলাম এবং এই কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমার আপত্তির কথা জানাতে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলাম।’

মামদানি জানান, প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন যে তিনি সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করা জোহরান মামদানি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, মামদানি নিজেই ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। অবশ্য তাঁদের মধ্যে বেশিক্ষণ কথা হয়নি।

স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিদশায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

এক সময় ট্রাম্পকে একজন ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যায়িত করা মামদানি শনিবার অনলাইনেও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ব্রুকলিনের একটি আটককেন্দ্রে রাখার বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তেও অসন্তোষ জানান তিনি।

মামদানি এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আটক করা এবং তাঁদের নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল কাস্টডিতে বন্দী করে রাখার পরিকল্পনার বিষয়ে আজ সকালে (শনিবার) আমাকে জানানো হয়েছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘একতরফাভাবে একটি সার্বভৌম দেশে হামলা চালানো যুদ্ধের শামিল এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন।’

মামদানি আরও লেখেন, ‘সরকার পরিবর্তনের এই নির্লজ্জ চেষ্টা শুধু বিদেশিদের ওপরই প্রভাব ফেলবে না, এটি সরাসরি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান এই শহরকে নিজেদের শহর বলে থাকেন, তাঁদের ওপর এর প্রভাব পড়বে। তাঁদের নিরাপত্তা ও নিউইয়র্কের প্রত্যেক বাসিন্দার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর আমরা গুরুত্ব দিই। আমার প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।’

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পকে মামদানির ফোনকলের বিষয়ে জানতে চেয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার কথা–চালাচালি হয়েছে। তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এই প্রথম তাঁর বিরোধ দেখা দিল। তবে এটাই শেষ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদুরোকে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) আটক রাখা হয়েছে। ম্যানহাটনের আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আনা মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে তাঁর বিচার হতে পারে। সোমবার সকালের দিকে মাদুরোকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।

মামদানি স্বীকার করেছেন যে মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেসব ব্যবস্থা নেবে, সেগুলোয় তাঁর তেমন একটা প্রভাব রাখার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার যেসব পদক্ষেপ নেয়, সেগুলোয় যেন নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন জীবনে তেমন প্রভাব না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।’