
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, এ অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের যন্ত্রপাতিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল, তাই মাদুরোকে ধরা সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘এ ডিসকম্বোবুলেটর সম্পর্কে আমার কিছু বলার এখতিয়ার নেই।’ গত শনিবার নিউইয়র্ক পোস্ট সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে।
তবে জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প সম্ভবত বিভিন্ন সরঞ্জামের একত্রিত কোনো সক্ষমতাকেই গোপন অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেটির আসলে আলাদা করে অস্তিত্ব নেই। মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর সময় দেশটির আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে সাইবার সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিল। মাঠে থাকা সেনাদের বিভ্রান্ত করতে বিদ্যমান শব্দ ব্যবস্থাও ব্যবহার করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বছরের পর বছর ধরে অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম (এডিএস) নামের একটি তাপ বিকিরণ অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে মাদুরোকে আটক করার সময় এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে সিএনএন এডিএস অস্ত্রের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এডিএস অস্ত্র প্রাণঘাতী নয়। এ অস্ত্র বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে একধরনের অদৃশ্য রশ্মি তৈরি করে, যা আধা মাইলের বেশি দূর পর্যন্ত যায়। এ রশ্মি মানুষের ত্বকের ওপর পড়লে তা গরম অনুভূতি তৈরি করে। এতে মানুষে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অন্য একজনের একটি পোস্ট রিপোস্ট করেছেন। ওই পোস্টটিতে একটি সাক্ষাৎকার ছিল। সেটি ভেনেজুয়েলার এক নিরাপত্তারক্ষীর সাক্ষাৎকার বলে দাবি করা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু চালু করেছিল, যা তীব্র মাত্রার শব্দতরঙ্গের মতো মনে হয়েছে।
ওই নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘হঠাৎ মনে হলো আমার মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাচ্ছে। আমাদের সবার নাক থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করেছিল। কেউ কেউ রক্তবমি করছিল। আমরা মাটিতে পড়ে যাই, হাত-পা চলছিল না।’
তবে সিএনএন এ বক্তব্যটি যাচাই করতে পারেনি।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মধ্য দিয়ে দেশটিতে অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে সেখানকার রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো সহজে অগ্রসর হতে পারছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি স্থল ও সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান এবং নজরদারি বিমানসহ ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছিল অভিযানে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস ড্যান কেইন এমন তথ্য দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতে হামলার জন্য একধরনের একমুখী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এ শহরটি ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ফোর্ট টিউনা সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতর মার্কিন বাহিনীর অবতরণের ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এগুলোকে এমএইচ–সিক্সটি ব্ল্যাকহক নামের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের স্বয়ংক্রিয় কামান থেকে ছোড়া গোলার শব্দের মতো শোনাচ্ছিল।
যদিও সেদিন ফোর্ট টিউনার ঠিক কোন জায়গা থেকে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী ভেতরে নামার পর ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।