
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)’ বিভাগ থেকে কোনো অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ করতে গতকাল শুক্রবার একটি বিল উত্থাপন করেছেন। অভিবাসন–সংক্রান্ত কোনো অভিযানে স্থানীয় পুলিশ যেন আর অংশ নিতে না পারে, সেটিই এ বিলের লক্ষ্য।
মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে এ বিল আনা হয়েছে। এ–সংক্রান্ত আইন পাস হলে আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সমঝোতা চুক্তির অবসান ঘটবে। ওই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করার সুযোগ পেত।
প্রস্তাবিত এ বিল পাস হলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ আর ফেডারেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে না। এ ছাড়া ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কাজে অঙ্গরাজ্যের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো সম্পদ বা জনবল ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না।
প্রস্তাবিত এ বিল পাস হলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ আর ফেডারেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে না। এ ছাড়া ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কাজে অঙ্গরাজ্যের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো সম্পদ বা জনবল ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না।
প্রস্তাবিত এ আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। এ ছাড়া বাড়ি বা স্কুলের মতো সংবেদনশীল জায়গায় প্রবেশের জন্য অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিচারিক পরোয়ানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
গভর্নর হোকুলের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।
তবে অভিবাসন কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে থাকা মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মনে করছে, এ পদক্ষেপ নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা কমিয়ে দেবে। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, ‘রাজনীতিবিদেরা যখন স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে বাধা দেন, তখন অপরাধীদের ধরতে এবং কারাগার থেকে বের হওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করতে আমাদের আরও বেশি দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকতে হবে।’
রাজনীতিবিদেরা যখন স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে বাধা দেন, তখন অপরাধীদের ধরতে এবং কারাগার থেকে বের হওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করতে আমাদের আরও বেশি দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকতে হবে।ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোও এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে সম্প্রতি ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী আইসিইর (আইস নামে পরিচিত বেশি) এক সদস্যের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটির প্রতি মানুষের মনোভাব হয়ে ওঠে ক্ষুব্ধ। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে আইসিইর গুলিতে আরেক ব্যক্তি নিহত হন। পরে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে শনাক্ত করেন তাঁর মা-বাবা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে আইসিইর তৎপরতা বেড়েছে। ইতিমধ্যে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
প্রস্তাবিত এ আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। এ ছাড়া বাড়ি বা স্কুলের মতো সংবেদনশীল জায়গায় প্রবেশের জন্য অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিচারিক পরোয়ানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
আইসিই সদস্যরা যেভাবে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব বেড়েছে। কখনো কখনো তা সংঘাতের পর্যায়ে গড়িয়েছে।