দণ্ডিত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন
দণ্ডিত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন

এপস্টিনের গোপন লকারে যৌনদাসী বানানোর নির্দেশিকাসহ আর কী কী আছে

যৌনদাসী তৈরির নির্দেশিকা (ম্যানুয়াল), কম্পিউটার, ভিডিও টেপ ও নগ্ন নারীদের অসংখ্য ছবি দণ্ডিত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের একটি গোপন স্টোরেজ লকারে পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ এলাকায় অবস্থিত ওই লকারে নারী ম্যাসাজকারীদের তিন পাতার একটি তালিকাও পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই লকারে কয়েক ডজন পর্নোগ্রাফিক সাময়িকী, ডিভিডি ও কিশোরীদের যৌন উত্তেজকভাবে উপস্থাপন করা ভিএইচএস টেপ ও ডিভিডি ছিল।

২০০৫ সালে পুলিশের অভিযানের আগে নিজের ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে প্রমাণ সরিয়ে ফেলতে এপস্টিন ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ভাড়া করেছিলেন। ওই গোয়েন্দারা এসব মালামাল পাম বিচের একটি গোপন গুদামে সরিয়ে নেন। পুলিশ যখন এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল, তখন বছরের পর বছর সেখানে এগুলো রক্ষিত ছিল।

পাম বিচের এই ইউনিটটি ছাড়া এপস্টিন এমন অন্তত আরও ছয়টি লকার ভাড়া নিয়েছিলেন।

সেই গোপন লকারে কী কী ছিল

লকারটিতে ২৯টি ঠিকানা–সংবলিত খাতা (অ্যাড্রেস বুক), তিনটি কম্পিউটার ও এপস্টিনের শিকার নারীদের নগ্ন ছবি ছিল। এ ছাড়া একটি ৮ মিলিমিটারের ভিডিও ক্যাসেট পাওয়া গেছে, যাতে জনৈক ব্যক্তির গোসলের দৃশ্য ও অন্তর্বাস পরিহিত এক নারীর ফুটেজ ছিল। ২০০৫ সালে এপস্টিনের বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে কিছু মালামালের রসিদ পেলেও পুলিশ এগুলো খুঁজে পায়নি।

পরে জানা যায়, এপস্টিন ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের টাকা দিয়ে ম্যাসাজকারী নারী, সেক্স টয়, অন্তর্বাস, দুই হাজার ডলার নগদ অর্থ ও হার্ভার্ডের আইডি কার্ড লুকিয়ে রেখেছিলেন। কয়েক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) দুটি কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ উদ্ধার করলেও ওই স্টোরেজ ইউনিটের বাকি মালামাল উদ্ধার হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

পাম বিচের এই ইউনিটটি ছাড়া এপস্টিন এমন অন্তত আরও ছয়টি লকার ভাড়া নিয়েছিলেন। টেলিগ্রাফের দেখা ওয়ারেন্ট অনুযায়ী, মার্কিন কর্তৃপক্ষ কখনো এসব ইউনিটে অভিযান চালায়নি। অর্থাৎ সেখানে এপস্টিন ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ম্যানহাটান কারাগারে এপস্টিনের আত্মহত্যার আগপর্যন্ত কিছু লকার ভাড়া নেওয়া ছিল। এপস্টিনের কর্মীরা কম্পিউটার সরানো ও তথ্য মুছে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

এপস্টিনের প্যারিস আস্তানা

ফরাসি সংবাদপত্র ‘ল্য পারিজিয়াঁ’ এপস্টিনের প্যারিসের ১৮ কক্ষের একটি বাসভবনের ছবি প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, সেখানে যৌন নিপীড়ন ও মানব পাচারের ঘটনা ঘটত। লাল দেয়ালের একটি ম্যাসাজ কক্ষে বেশ কিছু যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে।

অন্তত তিন নারী দাবি করেন, ফ্রান্সে এপস্টিন বা তাঁর সহযোগী ব্যক্তিরা তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। শিশু সুরক্ষা সংস্থা ‘ইনোসেন্স ইন ডেঞ্জার’ জানিয়েছে, তারা ফ্রান্সে এপস্টিন–সংক্রান্ত ১০টি যৌন অপরাধের অভিযোগ পেয়েছে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর ফরাসি প্রসিকিউটররা নতুন করে দুটি তদন্ত শুরু করেছেন। এর একটি আর্থিক অপরাধ এবং অন্যটি মানব পাচার–সংক্রান্ত।