নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে সিটি হলের সামনে অভিষেক ভাষণ দেন জোহরান মামদানি
নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে সিটি হলের সামনে অভিষেক ভাষণ দেন জোহরান মামদানি

অভিষেক ভাষণে মামদানি

নিউইয়র্কের এক নতুন গল্প লিখব আমরা

‘আজ এক নতুন যুগের শুরু’—ভাষণটি এভাবেই শুরু করেন জোহরান মামদানি। তারপর ধন্যবাদ জানালেন সবাইকে, নিউইয়র্কের মেয়র পদে তাঁকে বিজয়ী করার জন্য। এরপর ২৫ মিনিটে তুলে ধরলেন এই নগরী নিয়ে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা; বাসনা জানালেন সবাইকে নিয়ে পথচলার, প্রতিশ্রুতি দিলেন এই নগরীর নতুন গল্প লেখার। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে ঐতিহাসিক এই ভাষণ দেন জোহরান মামদানি। এই শপথের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হলেন এই ডেমোক্রেট। এই নগরের তিনিই প্রথম মুসলমান মেয়র; এই পদে দক্ষিণ এশিয়া বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবেও তিনিই প্রথম। বছরের প্রথম দিনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেওয়ার পর নিউইয়র্ক সিটি হলে অভিষেক ভাষণ দিতে আসেন মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ মামদানিকে শপথ পড়ান ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যাঁদের রয়েছে আদর্শিক অবস্থানের মিল।

মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার পর থেকে আলোচিত মামদানি যে ভাষণটি দিয়েছেন, তা এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি এখানে তুলে ধরা হলো—

আমার প্রিয় নিউইয়র্কবাসী, আজ নতুন এক যুগের সূচনা হলো।

এই পবিত্র শপথ নেওয়ার সৌভাগ্য হওয়ায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত; বিনম্র শ্রদ্ধা আপনাদের প্রতি, আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য। নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম বা ১১২তম মেয়র হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। তবে এখানে আমি একা নই। আমি আপনাদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে, লোয়ার ম্যানহাটানে আজ এখানে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের সঙ্গে, যাঁদের আশার বাতিতে চাপা পড়ছে জানুয়ারির শীত।

আমি দাঁড়িয়ে আছি আরও অসংখ্য নিউইয়র্কবাসীর পাশে, যাঁরা দেখছেন ইস্ট নিউইয়র্কের সংকীর্ণ রান্নাঘর থেকে শুরু করে সেলুনে বসে টিভিতে চোখ রেখে; লাগুয়ার্ডিয়ার পার্ক করা ট্যাক্সির ড্যাশবোর্ডে ঠেস দিয়ে রাখা মুঠোফোন থেকে, মট হ্যাভেনের হাসপাতাল থেকে, আর এল বারিওর সেই লাইব্রেরিগুলো থেকে, যেগুলো বহুদিন ধরে পড়ে আছে অবহেলাকে নিয়তি মেনে নিয়ে।

আমি দাঁড়িয়ে আছি লোহার বুট পরা সেই সব নির্মাণশ্রমিকের পাশে, সারা দিন কাজ করে হাঁটুর ব্যথায় অবশ সেই সব গাড়ির দোকানিদের পাশে, যাঁরা হালাল পণ্য বিক্রি করেন।

আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই সব প্রতিবেশীর পাশে, যাঁরা এই হলের শেষ প্রান্তের বৃদ্ধ দম্পতির জন্য খাবারের থালা নিয়ে যান; যাঁরা তাড়াহুড়ার মধ্যেও সাবওয়ের সিঁড়িতে অপরিচিতের স্ট্রলার তুলে দেন; এবং সেই মানুষগুলোর পাশে, যাঁরা প্রতিদিন কষ্টের মধ্যে এই শহরটিকে নিজের ঘর বলেই ভাবেন।

জানুয়ারির শীতের মধ্যে অভিষেক ভাষণে উষ্ণতা ছড়িয়েছিলেন জোহরান মামদানি

আমি দাঁড়িয়ে আছি ১০ লাখের বেশি নিউইয়র্কবাসীর পাশে, যাঁরা প্রায় দুই মাস আগে এই দিনটির জন্য ভোট দিয়েছিলেন, দাঁড়িয়ে আছি তাঁদের পাশেও, যাঁরা তা দেননি। আমি জানি, কেউ কেউ এই প্রশাসনকে অবিশ্বাস বা অবজ্ঞার চোখে দেখেন কিংবা মনে করেন যে রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা অবয়ব নিয়েছে। এটা মানি যে কেবল কাজ দেখানোর মাধ্যমেই এই মনোভাব বদলানো যাবে, তবু আমি আপনাদের এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনি যদি নিউইয়র্কের বাসিন্দা হন, তবে আমি আপনারই মেয়র। আপনার সঙ্গে আমার মতের মিল হোক বা না হোক, আমি আপনাকে রক্ষা করব। আপনার উদ্‌যাপনে যেমন সঙ্গী হব, সঙ্গী হব শোকেও। কখনো, এক সেকেন্ডের জন্যও আপনাদের চোখের আড়াল হব না।

আজ এখানে উপস্থিত শ্রমিক ও অধিকারকর্মীদের ধন্যবাদ। ধন্যবাদ কর্মচারী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও, যাঁরা এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার নিউইয়র্কবাসীর জন্য কর্মযুদ্ধে ফিরবেন। ধন্যবাদ সেই শিল্পীদের, যাঁরা তাঁদের প্রতিভা আমাদের উপহার দিয়েছেন।

গভর্নর হোকুলকে (নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল) ধন্যবাদ। মেয়র অ্যাডামসকেও (বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামস)  ধন্যবাদ; ডরোথির সন্তান, ব্রাউনসভিলের সেই ছেলে, যিনি বাসন মাজার কাজ থেকে আমাদের শহরের সর্বোচ্চ পদে উঠেছেন, আজ এখানে উপস্থিত থাকার জন্য। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে, তবু আমি সব সময়ই কৃতজ্ঞ থাকব; কারণ, তিনি আমাকে সেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, যিনি বদ্ধ কোনো ঘরে সঙ্গী হিসেবে আমাকে বেছে নিতে চাইতেন।

ধন্যবাদ সেই দুই মহীরুহকে, যাঁদের কংগ্রেস সদস্য হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, নিদিয়া ভেলাসকেজ ও আমাদের অসাধারণ উদ্বোধনী বক্তা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, যাঁরা এই মুহূর্তটি তৈরি করার পথ করে দিয়েছেন।

ধন্যবাদ সেই মানুষটিকে, যাঁর নেতৃত্ব আমি সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করতে চাই, এবং যাঁর হাতেই আজ আমি শপথ নিচ্ছি—সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

জোহরান মামদানিকে শপথ পাঠ করান ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন তিনি। সিটি হলের সামনে, লোয়ার ম্যানহাটান; নিউইয়র্ক। ১ জানুয়ারি ২০২৬

ধন্যবাদ আমার টিমকেও, অ্যাসেম্বলি থেকে শুরু করে প্রচার, রূপান্তর পর্ব হয়ে এখন সিটি হল থেকে যাঁদের নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত।

ধন্যবাদ আমার মা–বাবাকে ( মীরা নায়ার ও মাহমুদ মামদানি) আমাকে বড় করে তোলার জন্য, এই পৃথিবীতে কীভাবে থাকতে হয়, তা শেখানোর জন্য, আর আমাকে এই শহরে নিয়ে আসার জন্য। ধন্যবাদ আমার পরিবারকে, কাম্পালা (উগান্ডার রাজধানী, মাহমুদ মামদানির পৈতৃক নিবাস) থেকে দিল্লি পর্যন্ত।

নিউইয়র্কে মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার পর মা–বাবা ও স্ত্রীর সঙ্গে জোহরান মামদানি

আর আমার স্ত্রী রামাকে ধন্যবাদ, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হওয়ার জন্য, আর প্রতিদিন অতি সাধারণ সব জিনিসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য আমাকে দেখানোর জন্য।

সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ নিউইয়র্কের জনগণকে।

জোহরান মামদানির অভিষেক ভাষণের মঞ্চে দ্যুতি ছড়ান তাঁর স্ত্রী রমা দুওয়াজি

এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের এমন সুযোগ আমদের খুব কমই আসে। আর আরও বিরল হলো সেই সময়, যখন পরিবর্তনের চাবিগুলো নিজের হাতে ধরে রাখে জনগণই।

তবু আমরা জানি, আমাদের অতীতে বহুবার সম্ভাবনার মুহূর্তগুলো সংকীর্ণ কল্পনা আর আরও সংকীর্ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষার চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে, যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কখনো পূরণ হয়নি; যা বদলাতে পারত, তা একই রকম রয়ে গেছে। যাঁরা সবচেয়ে বেশি এই শহরকে নতুন করে গড়তে চেয়েছেন, তাঁদের জন্য বোঝা আরও ভারী হয়েছে, অপেক্ষার প্রহর হয়েছে দীর্ঘ।

এই ভাষণ যখন লিখছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, প্রত্যাশা কমাতে, নিউইয়র্কবাসীকে কম চাওয়ার আর আরও কম আশা করার আহ্বান জানাতে। আমি তা করব না। আমি কেবল একটি প্রত্যাশাই বদলাতে চাই, তা হলো ছোট প্রত্যাশার আশা।

আজ থেকে আমাদের প্রশাসন হবে সাহসী। আমরা সব সময় সফল না–ও হতে পারি, কিন্তু সামনে এগিয়ে চলার সাহসের অভাবের কথা যেন কেউ বলতে না পারে।

যাঁরা বলেন, বড় সরকারের যুগ শেষ, আমি তাঁদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, নিউইয়র্কবাসীর জীবনমান উন্নত করতে সিটি হল কর্তৃপক্ষ তার ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করবে।

নিউইয়র্ক সিটির নানা ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলেন এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে। লোয়ার ম্যানহাটান; নিউইয়র্ক। ১ জানুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আমরা শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বেসরকারি খাতের দিকে তাকিয়ে থেকেছি, আর যাঁরা জনগণের সেবা করেন, তাঁদের কাছ থেকে কেবল গড়পড়তা কাজই মেনে নিয়েছি। যাঁরা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কিংবা কয়েক দশকের উদাসীনতার কারণে গণতন্ত্রের ওপর যাঁদের আস্থা হারিয়ে গেছে, আমি তাঁদের কাউকে দোষ দিতে পারি না। আমরা একটি ভিন্ন পথে চলার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনব। এমন এক পথে হাঁটব, যেখানে সরকার কেবল অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হয়েই থাকবে না, বরং যেখানে শ্রেষ্ঠত্ব আর কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা হবে না।

আমরা শ্রেষ্ঠত্ব আশা করব মসলা পেষা রাঁধুনিদের কাছ থেকে, ব্রডওয়ের মঞ্চে ওঠা শিল্পীদের কাছ থেকে, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের প্রহরীদের কাছ থেকে। সরকারে কাজ করা মানুষের কাছ থেকেও সেটাই চাইব। ‘সিটি হল’ শব্দটিকে আমরা সমাধান ও ফলাফলের প্রতিশব্দে পরিণত করব।

এই কাজ শুরু করতে গিয়ে আমরা সেই চিরন্তন প্রশ্নের নতুন উত্তর দেব—নিউইয়র্ক কার?

আমাদের ইতিহাসের বড় অংশে সিটি হলের উত্তর ছিল সহজ—এটি ধনী ও ক্ষমতাবানদের, যাঁদের কখনো ক্ষমতাশালীদের দৃষ্টি আকর্ষণে কষ্ট করতে হয় না।

এর ফল ভোগ করেছেন শ্রমজীবী মানুষেরা। ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, যেখানে লিফট নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে; গর্তে ভরা রাস্তা আর আধা ঘণ্টা দেরিতে আসা বাস; না বাড়া মজুরি আর ভোক্তা ও কর্মচারী দুজনকেই ঠকানো করপোরেশন।

তার মধ্যেও কিছু ক্ষণস্থায়ী মুহূর্ত এসেছে, যখন এই সমীকরণ বদলেছে।

১২ বছর আগে বিল ডি ব্লাসিও ঠিক এখানেই দাঁড়িয়ে আমাদের শহরকে দুই ভাগ করা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কে জোহরান মামদানি প্রথম মুসলমান মেয়র; এই পদে দক্ষিণ এশিয়া বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবেও তিনিই প্রথম

১৯৯০ সালে ডেভিড ডিংকিন্স আমার মতোই শপথ বাক্যগুলো পাঠ করেছিলেন, নিউইয়র্ককে বৈচিত্র্যময় শহর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি, যেখানে প্রত্যেকেই সম্মানজনক জীবন যাপন করবে।

আর প্রায় ছয় দশক আগে ফিওরেলো লা গার্ডিয়া ক্ষমতায় এসে ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য আরও মহান ও সুন্দর শহর গড়ার লক্ষ্য নিয়েছিলেন।

এই মেয়রদের কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে বেশি সফল ছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসে তাঁরা ছিলেন অভিন্ন, তা হলো, নিউইয়র্ক কেবল মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের জন্য নয়। এই শহর তাঁদেরও, যাঁরা আমাদের সাবওয়ে ট্রেন চালান, পার্ক পরিষ্কার করেন; যাঁরা আমাদের বিরিয়ানি আর বিফ প্যাটি, কিংবা পিকানহা এবং রাই ব্রেডের পাস্তরামি খাইয়ে তৃপ্ত করেন। তাঁরা জানতেন যে এই বিশ্বাস তখনই বাস্তবে রূপ পাবে, যদি সরকার সেসব পরিশ্রমী মানুষের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার সাহস দেখায়।

আগামী বছরগুলোয় আমার প্রশাসন সেই উত্তরাধিকার পুনরুজ্জীবিত করবে। সিটি হল দেবে নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্যতা ও প্রাচুর্যের কর্মসূচি, যেখানে সরকার হবে যাদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের মতো; করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কখনো পিছু হটবে না; আর যেসব চ্যালেঞ্জকে অন্যরা জটিল বলে এড়িয়ে গেছে, সেগুলোর সামনে মাথানত করবে না।

এভাবেই আমরা সেই পুরোনো প্রশ্নের নিজেদের উত্তর দেব—নিউইয়র্ক কার? বন্ধুরা, মাদিবার কথা আর দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রিডম চার্টার থেকে আমরা উত্তর পাই: নিউইয়র্ক ‘এখানে বসবাসকারী সবার’।

একসঙ্গে আমরা আমাদের শহরের নতুন গল্প লিখব। এটি কেবল ১ শতাংশের দ্বারা শাসিত এক শহরের গল্প হবে না। আবার ধনী বনাম গরিব—দুটি শহরের গল্পও হবে না। এটি হবে ‘৮৫ লাখ’ শহরের গল্প—প্রত্যেকেই একজন নিউইয়র্কবাসী, প্রত্যেকেরই আশা ও ভয় আছে, প্রত্যেকেই একটি মহাবিশ্ব, আর সবাই গাঁথা থাকবে একে অন্যের সঙ্গে।

এই গল্পের লেখকেরা পশতু ও মান্দারিন, ইদ্দিশ (ইহুদির একটি অংশের ভাষা) ও ক্রিওল (ক্যারিবিয়ান) ভাষায় কথা বলবেন। তাঁরা প্রার্থনা করবেন মসজিদে, সিনাগগে, গির্জায়, গুরুদুয়ারায়, মন্দিরে, আর অনেকে হয়তো তা করবেনই না।

বিপুল এই উপস্থিতি ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। লোয়ার ম্যানহাটান; নিউইয়র্ক। ১ জানুয়ারি ২০২৬

তারা হবেন ব্রাইটন বিচের রুশ ইহুদি অভিবাসী, রসভিলের ইতালিয়ান, উডহ্যাভেনের আইরিশ পরিবার—যাঁদের অনেকেই এসেছিলেন উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে, যা এখন মলিন। তাঁরা হবেন মার্বেল হিলের সংকীর্ণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকা তরুণেরা, যেখানে ট্রেন গেলে দেয়াল কেঁপে ওঠে। তাঁরা হবেন সেন্ট অ্যালব্যান্সের কৃষ্ণাঙ্গ গৃহস্বামী, যাঁদের ঘর দশকের পর দশক কম মজুরি আর প্রান্তিক অবস্থান জয়ের সংগ্রামে রয়েছে। তাঁরা হবেন বে রিজের ফিলিস্তিনি নিউইয়র্কবাসী, যাঁদের আর এমন রাজনীতির মুখোমুখি হতে হবে না, যা তাঁদের ব্যতিক্রম হিসেবে দেখায়।

এই ৮৫ লাখ মানুষের খুব কমই এক ঝুড়িতে থাকতে পারবেন। কেউ কেউ হবেন হিলসাইড অ্যাভিনিউ বা ফোর্ডহ্যাম রোডের ভোটার, যাঁরা এক বছর আগে ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে নিজেদের দলের ব্যর্থতায় ক্লান্ত হয়ে শেষে পরে আমাকে ভোট দিয়েছেন। অধিকাংশই সেই ভাষায় কথা বলবেন না, যেটা আমরা ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে আশা করি। আমি এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভদ্রতার সুন্দর বচনে আড়াল করে রাখা হয়েছে নিষ্ঠুরতাকে।

তাঁদের অনেকেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রশাসনে তাঁদের কথাও শুনবে। তাঁদের আশা, স্বপ্ন ও স্বার্থ স্বচ্ছভাবে সরকারের মধ্যে প্রতিফলিত হবে। তাঁরাই গড়বেন আমাদের ভবিষ্যৎ।

আর যদি এত দিন এই গোষ্ঠীগুলো দূরত্ব বজায় রেখে থেকেও থাকে, আমাদের শহর তাঁদের আরও কাছে টানবে। কঠোর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বরফ গলাব আমরা সামষ্টিকতার উষ্ণতায়। আমাদের প্রচারণা যদি প্রমাণ করে থাকে যে নিউইয়র্কবাসী সংহতির জন্য আকুল, তবে এই সরকার তা লালন করবে। কারণ, আপনি কী খান, কীভাবে প্রার্থনা করেন, বা কোথা থেকে এসেছেন, তা মুখ্য নয়; আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, সেই দুটি শব্দ—নিউইয়র্কবাসী।

নিউইয়র্কবাসীই ভঙ্গুর সম্পত্তি করব্যবস্থা সংস্কার করবে। নিউইয়র্কবাসীই গড়ে তুলবে কমিউনিটি নিরাপত্তা বিভাগ, যা মানসিক স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলা করবে এবং পুলিশকে তাদের আসল কাজ করতে দেবে। নিউইয়র্কবাসীই বাজে বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে লড়বে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় আমলাতন্ত্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে। আর আমি গর্বিত যে আমি নিজেও সেই নিউইয়র্কবাসীর একজন।

নিজের ‘ট্রানজিশন’ দলের সঙ্গে জোহরান মামদানি। ৫ অক্টোবর, ২০২৫

গত জুনে আমরা যখন প্রাইমারি জিতেছিলাম, অনেকে বলেছিলেন, এই আকাঙ্ক্ষা আর যারা এগুলো লালন করে, তারা নাকি হঠাৎ উড়ে এসেছে। কিন্তু এটা এসেছে ৮৫ লাখ ‘কোথাও’ থেকে, ট্যাক্সি ডিপো, অ্যামাজনের গুদাম, ডিএসএ (ডেমক্রেটিক সোসালিস্ট অব আমিরকা) সভা আর ফুটপাতে ডোমিনো খেলার জায়গা থেকে। ক্ষমতাবানরা বহুদিন এসব জায়গার দিকে তাকাননি, তাই এগুলোকে তাঁরা ‘কোথাও না’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের শহরে, যেখানে পাঁচ বরোর প্রতিটি কোণেই শক্তি আছে, সেখানে কোনো ‘কোথাও না’ নেই, কোনো ‘কেউ না’ নেই। আছে শুধু নিউইয়র্ক, আর আছে শুধু নিউইয়র্কবাসী।

৮৫ লাখ নিউইয়র্কবাসীই এই নতুন যুগকে বাস্তবে রূপ দেবে, সরবে। এটি হবে ভিন্ন। এটি হবে সেই নিউইয়র্ক, যাকে আমরা ভালোবাসি।

আপনি যত দিন ধরে এই শহরকে ঘর বলে ডাকুন না কেন, এই ভালোবাসাই কিন্তু আপনার জীবন গড়ে দিয়েছে। আমি জানি; কারণ, আমাকেও গড়ে তুলেছে। এটা সেই শহর, যেখানে ১২ বছর বয়সে আমি স্কুটারে ল্যান্ড-স্পিড রেকর্ড গড়েছিলাম, জীবনের দ্রুততম সময়ে চার ব্লক অতিক্রম করে।

এই শহর, যেখানে এওয়াইএসও ফুটবল ম্যাচের বিরতিতে আমি গুঁড়ো ডোনাট খেয়েছি আর বুঝেছি, আমি সম্ভবত পেশাদার হচ্ছি না। এই শহর, যেখানে কোরোনেটস পিৎজার অতিরিক্ত বড় স্লাইস গিলেছি, ফেরি পয়েন্ট পার্কে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, আর এক ট্রেনে চড়ে বিএক্স১০ ধরেও ব্রঙ্কস সায়েন্সে দেরি করে পৌঁছেছি।

এই শহর, যেখানে এই ফটকের বাইরে অনশন করেছি, আটলান্টিক অ্যাভিনিউয়ের পর থেমে যাওয়া এন ট্রেনে দমবন্ধ হয়ে বসে থেকেছি, আর ২৬ ফেডারেল প্লাজা থেকে বাবার বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় নিঃশব্দ আতঙ্কের প্রহর গুনেছি।

এই শহর, যেখানে প্রথম ডেটে আমি রামাকে ম্যাককারেন পার্কে নিয়ে গিয়েছিলাম, আর পার্ল স্ট্রিটে মার্কিন নাগরিক হওয়ার ভিন্ন এক শপথ নিয়েছিলাম।

নিউইয়র্কে বাঁচা, নিউইয়র্ককে ভালোবাসা মানে এই পৃথিবীতে অতুলনীয় কিছু রক্ষা করার দায়িত্ব যে আমাদের হাতে আছে, তা জানা। কোথায় আপনি একই ব্লকে স্টিলপ্যানের (ক্যারিবিয়ান বাদ্যযন্ত্র) শব্দ শুনতে পারেন, সানকোচোর (ক্যারিয়ীয় ও লাতিন আমেরিকার খাবার) গন্ধ নিতে পারেন, আর ৯ ডলার দিয়ে কফি কিনতে পারেন? কোথায় আমার মতো এক মুসলিম শিশু প্রতি রোববার ব্যাগেল আর লক্স (নিউইয়র্কের জনপ্রিয় বার্গার) খেয়ে বড় হতে পারে?

এই ভালোবাসাই আমাদের সামনে চলার পথ দেখাবে। এখানে, যেখানে নিউ ডিলের (প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের সংস্কার কর্মসূচি) জন্ম নিয়েছিল, আমরা এই শহরের বিপুল সম্পদ ফিরিয়ে দেব সেই শ্রমিকদের কাছে, যাঁরা এই শহরকে নিজেদের ঘর মনে করেন। আমরা নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাপনকে শুধু সাশ্রয়ীই করব না, আমরা বিচ্ছিন্নতাও কাটাব, যা অনেকেই অনুভব করেন। এই শহরের মানুষদের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করব আমরা।

শিশু যত্নের খরচ আর তরুণদের সংসার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করবে না। কারণ, আমরা ধনীদের ওপর কর আরোপ করে সবার জন্য সার্বজনীন শিশু যত্ন নিশ্চিত করব। মানুষ আর ভাড়াবৃদ্ধির আতঙ্কে থাকবেন না; কারণ, আমরা ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করব। বাসে উঠতে গিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি বা দেরি হওয়ার ভয় আর অলৌকিক কিছু বলে মনে হবে না; কারণ, আমরা বাসভ্রমণ দ্রুত ও বিনা ভাড়ায় করব।

নিউইয়র্কের প্রতি ভালোবাসাই সামনে চলার পথ দেখাবে, বলেছেন জোহরান মামদানি

এই নীতিগুলো কেবল যেসব খরচ আমরা বিনা মূল্যে করি, তা নিয়ে নয়; এগুলো সেই জীবন নিয়ে, যেগুলোকে আমরা স্বাধীনতায় ভরিয়ে দিই। দীর্ঘদিন ধরে এই শহরে স্বাধীনতা কেবল তাঁদেরই ছিল, যাঁরা কিনতে পারতেন। আমাদের সিটি হল তা বদলাবে।

এই প্রতিশ্রুতিগুলোই আমাদের আন্দোলনকে আজ সিটি হলে এনেছে, আর এগুলোই আমাদের প্রচারণার স্লোগান থেকে নতুন রাজনৈতিক যুগের বাস্তবতায় নিয়ে যাবে।

দুই সপ্তাহ আগে হালকা তুষারপাতের মধ্যে আমি অ্যাস্টোরিয়ার মিউজিয়াম অব দ্য মুভিং ইমেজে ১২ ঘণ্টা কাটিয়েছিলাম, প্রতিটি বরো থেকে আসা নিউইয়র্কবাসীর কথা শুনে, তাঁরা আমাকে তাঁদের শহরের গল্প বলেছেন।

আমরা ভ্যান উইক এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ সময়, ইবিটি যোগ্যতা, শিল্পীদের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান, আর আইসিই অভিযানের কথা বলেছি। আমি টিজে নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি, যার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল কয়েক বছর আগে এটা বুঝতে পেরে যে যত পরিশ্রমই করুন না কেন, এখানে তিনি আর এগোতে পারবেন না। আমি সামিনা নামের এক পাকিস্তানির সঙ্গে কথা বলেছি, যিনি বললেন, এই আন্দোলন মানুষের হৃদয়ে এক বিরল জিনিস ফিরিয়ে এনেছে, তা হচ্ছে কোমলতা। তিনি উর্দুতে বলেছিলেন, ‘লোগোঁ কে দিল বদল গ্যেহে।’

৮৫ লাখের মধ্যে মাত্র ১৪২ জন। তবু তাদের সবাইকে এক করেছে এই উপলব্ধি যে এই মুহূর্ত নতুন রাজনীতি আর ক্ষমতার নতুন প্রয়োগ প্রয়োজন।

আমরা প্রতিদিন কাজ করব, যাতে এই শহর আগের চেয়ে আরও বেশি মানবিক হয়।

আজ সকালে আমার পেছনের ভবনে যে প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে, তার কাছ থেকে আমি চাই আপনি এগুলোই আশা করুন।

জোহরান মামদানির বিজয়ে উদ্বেলিত তাঁর সমর্থকেরা মাতিয়েছেন শপথ অনুষ্ঠানও

আমরা সিটি হলের সংস্কৃতিকে ‘না’ থেকে ‘কীভাবে?’-তে বদলাব। আমরা জবাবদিহি করব সব নিউইয়র্কবাসীর কাছে। কোনো বিলিয়নেয়ার বা অলিগার্কের কাছে নয়, যাঁরা ভাবেন, তাঁরা আমাদের গণতন্ত্র কিনতে পারেন।

আমরা গ্লানি বা অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করব না, ক্ষমা চাইব না নিজেদের বিশ্বাসের জন্য। আমি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবেই শাসন করব। ‘চরমপন্থী’ বলা হবে, এই ভয়ে আমি আমার নীতি ছাড়ব না। ভারমন্টের মহান সিনেটর (বার্নি স্যান্ডার্স) যেমন বলেছিলেন, ‘চরমপন্থা হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা অল্প কয়েকজনকে এত কিছু দেয়, আর এত মানুষের জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজন অস্বীকার করে।’

আমরা প্রতিদিন চেষ্টা করব, যেন কোনো নিউইয়র্কবাসী সেই মৌলিক প্রয়োজনগুলোর কোনো একটি থেকেও বঞ্চিত না হন।

আর সবকিছুর মধ্যেই জেসন টেরেন্স ফিলিপসের (র‍্যাব সংগীতশিল্পী) ভাষায় আমরা থাকব ‘বাইরে’; কারণ, এটি নিউইয়র্কের সরকার, নিউইয়র্কবাসীর দ্বারা, নিউইয়র্কবাসীর জন্য।

শেষ করার আগে, আমি আপনাদের সবাইকে, যাঁরা এখানে আছেন বা যেখানেই দেখছেন, যদি পারেন, আমার সঙ্গে একটু দাঁড়াতে অনুরোধ করছি।

এখন আমাদের সঙ্গে দাঁড়ান, আর প্রতিটি দিন দাঁড়ান। সিটি হল একা এই কাজ করতে পারবে না। আমরা যেমন জনগণের সেবা করার সৌভাগ্য পাওয়া মানুষদের কাছ থেকে আরও বেশি দাবি করব, তেমনি আপনাদের কাছ থেকেও নিজেদের কাছ থেকে আরও বেশি দাবি করতে উৎসাহ দেব।

এক বছরেরও বেশি আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আমাদের নির্বাচনে শেষ হয়নি। আজ বিকেলেও শেষ হবে না। এটি বেঁচে থাকবে, প্রতিটি লড়াইয়ে আমরা একসঙ্গে লড়ব; প্রতিটি তুষারঝড় ও বন্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করব; প্রতিটি আর্থিক সংকট অতিক্রম করব একসঙ্গে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে, কৃচ্ছ্রসাধন নয়; আর শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে প্রতিটি পরিবর্তন একসঙ্গে সাধন করব, তবে তাদের ক্ষতির বিনিময়ে নয়।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিজেকে চেনাচ্ছেন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে

এখন থেকে বিজয় মানে খবরটি শোনার পর তা বন্ধ করে দেওয়া নয়। আজ থেকে আমরা বিজয়কে খুব সহজভাবে সংজ্ঞায়িত করব, এমন কিছু যা জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, এবং এমন কিছু যা অর্জনের জন্য আমাদের প্রত্যেককে প্রতিদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করব, তা পাঁচ বরো (স্থানীয় কাউন্সিল) জুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে এবং তার বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। অনেকে তাকিয়ে আছে। তারা জানতে চায়, বামপন্থা কি শাসন করতে পারে? তারা জানতে চায়, তাদের যন্ত্রণা কি উপশনযোগ্য? তারা জানতে চায়, আবার আশাবাদী হওয়া কি ঠিক হবে?

তাই পেছনে নেওয়ার হাওয়ার সামনে আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আমরা এমন কিছু করব, যা নিউইয়র্কবাসীরা সবার চেয়ে ভালো পারেন, আমরা বিশ্বের সামনে নজির তুলে ধরব। যদি সিনাত্রার (ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা, তার বিখ্যাত গান থিম ফ্রম নিউইয়র্ক ) কথা সত্য হয়, তবে প্রমাণ করি নিউইয়র্কে যে কেউ সফল হতে পারে, আর অন্য জায়গাতেও। আসুন দেখিয়ে দিই, যখন একটি শহর মানুষের হয়, তখন পূরণ করার মতো কোনো প্রয়োজনই ছোট নয়, সুস্থ করার মতো কোনো মানুষই অতটা অসুস্থ নয়, আর নিউইয়র্ককে নিজের ঘর মনে করার জন্য কেউই খুব বেশি একা নয়।

কাজ চলছে, কাজ চলবে। কাজ, বন্ধুরা— মাত্র তো শুরু হলো।

ধন্যবাদ।